কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের আকাশছোঁয়া LMNOQ স্কাইবারে সেদিন শুধুই একটি গানের প্রকাশ নয়, বরং এক শিল্পীর স্বপ্ন, সাধনা আর আত্মকথার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটল।

শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের আকাশছোঁয়া LMNOQ স্কাইবারে সেদিন শুধুই একটি গানের প্রকাশ নয়, বরং এক শিল্পীর স্বপ্ন, সাধনা আর আত্মকথার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটল। মার্চেন্ট রেকর্ডসের উদ্যোগে মুক্তি পেল এই নতুন মৌলিক গান—‘সাওয়ারে’। যা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রাচীন ধারা ঠুমরিকে আধুনিক সাউন্ডস্কেপের সঙ্গে মিশিয়ে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা উপহার দেয়।
এই গানের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গায়ক-সুরকার সায়নী পালিত। তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়েছে এমন এক সংবেদনশীলতা, যা চোখে দেখা যায় না— শুধু অনুভব করা যায়। ঠুমরির আবেগ থেকেই জন্ম নেওয়া ‘সাওয়ারে’, কিন্তু তার ভাষা একেবারেই আজকের সময়ের। সায়নীর নিজের কথায়, এই গান তাঁর কাছে নিছক সৃষ্টিকর্ম নয়, বরং আত্মপ্রকাশের এক পথ। যেহেতু দৃশ্যমান জগত তাঁর কাছে ধরা দেয় না, তাই সঙ্গীতই তাঁর চোখ— সেই চোখ দিয়েই তিনি পৃথিবীকে দেখেন, অনুভব করেন এবং শ্রোতাদেরও সেই অনুভবের ভেতরে ডেকে নেন।

গানটির সংগীতায়োজনে রয়েছেন নীলাঞ্জন ঘোষ, যিনি শাস্ত্রীয় অনুষঙ্গ আর আধুনিক সাউন্ডের মধ্যে এক সূক্ষ্ম, মসৃণ সেতু তৈরি করেছেন। তাঁর সংগীতে কোথাও অতিরিক্ত জাঁকজমক নেই, আবার কোথাও শাস্ত্রীয়তার ভারও চেপে বসে না— বরং দুয়ের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এক পরিমিত সৌন্দর্য।
এই সুরের সঙ্গে চোখের ভাষা যোগ করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সত্রাজিত সেন। গানটি শোনার মুহূর্ত থেকেই তাঁর কল্পনায় ভেসে উঠেছিল এক রাজবাড়ি— ইতিহাস আর নীরবতার সাক্ষী এক স্থাপত্য, যেখানে দৃশ্যের মধ্য দিয়ে গায়িকার মনের দেখার ক্ষমতা ধরা পড়বে। তাঁর ভাবনায় তৈরি হয় একটি গল্প, একটি প্রবাহ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে এই মিউজিক ভিডিও, যেখানে অভিনয় করেছেন সুপ্রতীম রায় ও সায়নী দত্ত। সত্রাজিতের বিশ্বাস, আজকের দিনে গান শুধু শোনার নয়— দেখারও অভ্যাস তৈরি হয়েছে দর্শকের। সেই দেখার অভিজ্ঞতা ‘সাওয়ারে’ কতটা ছুঁতে পারে মন, সেটাই এখন অপেক্ষার বিষয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের বহু পরিচিত মুখ। অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়, যিনি সায়নীকে বহুদিন ধরে চেনেন এবং আগে ‘অসুর’ ছবিতে তাঁর কণ্ঠের সাক্ষী থেকেছেন, সেদিন আবেগ লুকোননি। তাঁর কথায়, সায়নীর গলায় এমন এক বিরল অনুভূতি আছে, যা একবার শোনার পর সহজে শ্রোতার মন ছাড়ে না— থেকে যায় অনেকদিন, অনেকটা সময়। মার্চেন্ট রেকর্ডসের ব্যানারে প্রকাশিত ‘সাওয়ারে’ এখন সেলিম-সুলেমান ইউটিউব চ্যানেলে উপলব্ধ।