ছবির বিষয়বস্তুর থেকেও বেশি আলোচনায় এখন রাহুলের অনুপস্থিতি। সহকর্মীদের কথায়, তিনি শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা নন, বরং ছিলেন ইউনিটের প্রাণকেন্দ্র।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 2 April 2026 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডের আকাশে এখনও শোকের ছায়া। সেই আবহেই নতুন করে আলোচনায় প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee Death)-এর শেষ কাজ—ছবি ‘ICU’। জীবনের শেষ বড়পর্দা উপস্থিতি হিসেবে এই ছবির গুরুত্ব এখন বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। দর্শকদের কাছে এটি আর শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক আবেগ।
পরিচালক সৌভিক দে-র ‘আইসিইউ’ মূলত সমসাময়িক সময়ের গল্প বলবে। কয়েকজন যুবকের এক সামান্য প্র্যাঙ্ক—যা প্রথমে নিছক মজা হিসেবেই শুরু হয়েছিল—ক্রমে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। সেই ঘটনাই একসময় পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। বিনোদনের মোড়কে ছবিটি তুলে ধরতে চায় ডিজিটাল যুগের দায়বদ্ধতা ও অসাবধানতার বিপজ্জনক পরিণতি।
তবে ছবির বিষয়বস্তুর থেকেও বেশি আলোচনায় এখন রাহুলের অনুপস্থিতি। সহকর্মীদের কথায়, তিনি শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতা নন, বরং ছিলেন ইউনিটের প্রাণকেন্দ্র। সেটে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা উদ্যম, কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠা এবং সকলকে একসূত্রে বেঁধে রাখার ক্ষমতা। তাঁর হঠাৎ প্রয়াণে সেই শূন্যতা আজও তীব্রভাবে অনুভব করছেন সহকর্মীরা।
শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাতেই থেমে যায় তাঁর জীবনযাত্রা। শেষবার তিনি কাজ করছিলেন টেলিভিশনের একটি ধারাবাহিকে। তবে বড়পর্দায় তাঁর শেষ সম্পূর্ণ কাজ হিসেবে থেকে গেল ‘আইসিইউ’, যার শুটিং এবং ডাবিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছিল। ফলে এই ছবিই হয়ে উঠেছে তাঁর অভিনয় জীবনের শেষ স্মারক।
এই ছবিতে রাহুলের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন শ্রীমা ভট্টাচার্য—প্রথমবারের মতো তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র, আরিয়ান ভৌমিক এবং দেবরাজ ভট্টাচার্য। ছবির বড় অংশের শুটিং হয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলে, বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে কলকাতায়।
রাহুলের সহকর্মীরা বলছেন, খুব অল্প সময়েই তিনি হয়ে উঠেছিলেন অনেকের কাছে ভরসার জায়গা। কাজের ফাঁকে আড্ডা, হাসি, কিংবা কঠিন মুহূর্তে পাশে থাকা—সবেতেই তিনি ছিলেন এক নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি। তাই তাঁর এই আকস্মিক বিদায় যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই।
দ্য ওয়ালকে পরিচালক সৌভিক জানালেন, ‘কত স্মৃতি মনে পড়ছে। এই একটা কথা বারবার বলতে চাই না...। কথা প্রসঙ্গে তো আমরা কত কী-ই বলে থাকি। আজ এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য়ে আমার বারবার মনে পড়ছে। দাদা এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। কোথাও কিছু লিখিনি। এ যন্ত্রণা আমার ব্যক্তিগত। মানুষটাই চলে গিয়েছে। ’
সব মিলিয়ে, ‘আইসিইউ’ এখন শুধুই একটি চলচ্চিত্র নয়—এটি এক স্মৃতি, এক শ্রদ্ধার্ঘ্য। বড়পর্দায় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপস্থিতি দর্শকদের কতটা নাড়িয়ে দেবে, সেটাই এখন দেখার।