২০২১ সালে গোটা ইন্টারনেট উত্তাল হয়েছিল। অগাস্টে যখন ফারহান ঘোষণা করেছিলেন ‘জী লে জরা’, তিন সুপারস্টার নায়িকা প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, কাটরিনা কাইফ এবং আলিয়া ভাটকে (Priyanka Chopra Jonas, Alia Bhatt & Katrina Kaif) নিয়ে হতে চলেছে রোড-ট্রিপ ড্রামা।

শেষ আপডেট: 2 December 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২১ সালে গোটা ইন্টারনেট উত্তাল হয়েছিল। অগাস্টে যখন ফারহান ঘোষণা করেছিলেন ‘জী লে জরা’, তিন সুপারস্টার নায়িকা প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, কাটরিনা কাইফ এবং আলিয়া ভাটকে (Priyanka Chopra Jonas, Alia Bhatt & Katrina Kaif) নিয়ে হতে চলেছে রোড-ট্রিপ ড্রামা। কিন্তু উত্তেজনায় মোড়া সেই ঘোষণা ক্রমে পরিণত হয়েছিল দফায় দফায় স্থগিত হওয়া শুটিং, তারিখের অমিল, আর নানা রকম জল্পনার ঘূর্ণিপাকে। বছর ঘুরে দর্শক ভাবতে শুরু করেছিলেন—ছবিটা নাকি থমকে গেছে, না কি চুপিচুপি বন্ধই হয়ে গিয়েছে! অবশেষে সেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ফারহান নিজেই জানালেন সমাধানের খবর।
সূত্রের খবর, প্রিয়াঙ্কা, ক্যাটরিনা, আলিয়া অভিনীত ‘জী লে জরা’ ঠিক পথে ফিরেছে। ফারহান, জোয়া আখতার এবং রিমা কাগতি—এই তিন লেখক দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলেন এমন তিনজন পুরুষ মুখ, যারা এই তিন নায়িকার সমকক্ষ হয়ে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারেন। প্রযোজনা পক্ষ চাইছিলেন তিনজন এ-লিস্ট অভিনেতা। সেই অনুসন্ধানই আরও বিলম্বিত করেছিল ছবিটিকে।
এবার ফারহান আখতার নিজেই নিশ্চিত করলেন—অপেক্ষার পালা শেষ, ছবি শুরু হতে চলেছে খুব শিগগিরই। তাঁর কথায়, “সত্যি বলতে কী, অভিনেতাদের তারিখ মিলিয়ে কাজ শুরু করাটা একটা মানসিক ট্রমার মতো ছিল। তবে এখন সব সমস্যা মিটে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি শুটিং শুরু করব।”
প্রথম ঘোষণার সময়, ২০২১ সালে, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া একটি নোট শেয়ার করেছিলেন— যেখানে তিনি লিখেছিলেন, “চলুন ফিরি সেই রাতে—মুম্বইয়ের অস্বাভাবিক বৃষ্টিভেজা এক সন্ধেতে আমার একটা তীব্র ইচ্ছে হচ্ছিল আরেকটা হিন্দি ছবি করতে। কিন্তু সেটা হতে হবে আলাদা, ঠান্ডা-ঠান্ডা, আগে যা হয়নি তেমন কিছু। ঠিক তখনই মাথায় আসে—সব মেয়েদের নিয়ে একটা গল্প হোক। হিন্দিতে এমন মহিলা মাল্টি-স্টারার খুবই কম। দু’জন সত্যিকারের বন্ধুকে একটা হঠাৎ ফোন করেছিলাম—তিন বান্ধবীর বন্ধুত্ব উদযাপনের এই গল্পটা নিয়ে। আমরা নাম দিলাম—বন্ধুত্বের সেলিব্রেশন!”
এদিকে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি করলেন ফারহান। তিনি জানালেন, গত কয়েক বছর তিনি বহু অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন শুধুমাত্র ‘জী লে জরা’-র কাজে মন দিতে। তাঁর কথায়, “২০২১-এ তুফান মুক্তি পাওয়ার পরই আমি জী লে জরা-র দিকেই পুরো মনোযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু ছবি বারবার পিছতে থাকায় দুই বছর ধরে আমি অন্য কোনও কাজই করিনি। যখন পরিচালনা করতে হয়, তখন পুরো ফোকাসটাই ওদিকে থাকে। তাই যে কোনও অভিনয়ের প্রস্তাব এলে বলেছি—‘না, আমি তো এখনই একটা ছবি পরিচালনা করতে চলেছি।’
এই দীর্ঘ বিরতিতে তাঁর মনে জন্মেছিল দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। ফারহানের কথায়, “অনেক সময় মনে হতো, আমি বুঝি সময় নষ্ট করছি। দেখলাম দুই-আড়াই বছর কেটে গেল। মনে হচ্ছিল—মানুষ হয়তো ভাববে আমি আর পরিচালনাতেই ফিরতে পারব না! শেষ ছবি পরিচালনা করেছি ১২ বছর আগে—কেউ কি তাহলে আমার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে? থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলার পর বুঝতে পারলাম, এই আতঙ্কগুলো কবে থেকে জমে আছে। অথচ আমি কখনওই বলতে চাইনি—‘চলুন, এই ছবিটা বাদ দিই।’
বন্ধুত্বের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়া এক রোড-ট্রিপের গল্প—এমনই হালকা অথচ প্রাণবন্ত আবহে তৈরি হচ্ছে জী লে জরা। ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই ছবিকে ঘিরে ছিল অগাধ উন্মাদনা। এখন আবার সবুজ সংকেত মিলতেই নতুন করে বাড়ল উত্তেজনা।
তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়—এবার কি সত্যিই রওনা দেবে তিন বান্ধবীর সেই বহু প্রতীক্ষিত যাত্রা, নাকি রাস্তায় ফের কোনও অদৃশ্য বাঁক অপেক্ষা করছে?