নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের তীব্রতা ও উপস্থিতি দিয়ে বহুবার আলোচনায় উঠে এসেছেন জয়রাজ ভট্টাচার্য।। তবে এ বার তিনি আলোয় নন, থাকছেন ক্যামেরার পেছনে।

শেষ আপডেট: 10 April 2026 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের তীব্রতা ও উপস্থিতি দিয়ে বহুবার আলোচনায় উঠে এসেছেন জয়রাজ ভট্টাচার্য।। তবে এ বার তিনি আলোয় নন, থাকছেন ক্যামেরার পেছনে। তাঁর পরিচালিত ছবি ‘বিসর্জন’(Bisorjon) জায়গা করে নিয়েছে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে।
আগামী ১৬ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই উৎসব, আর সেখানেই হতে চলেছে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার (Moscow International Film Festival 2026)। ১৯ এপ্রিল ছবিটি প্রদর্শিত হবে, জানান পরিচালক নিজেই। তাঁর কথায়, আমার ছবির মনোনয়ন পাওয়াটাই আমার কাছে এক বড় স্বীকৃতি।
ছবির কলাকুশলীদের সঙ্গে খুব শিগগিরই মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেবেন জয়রাজ। এই ছবিতে রঘুপতির চরিত্রে রয়েছেন ঋত্বিক, জয়সিংহ-শৌনক কুহুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, আর অপদার চরিত্রে দেখা যাবে এঞ্জেলা মণ্ডলকে। সিনেম্যাটোগ্রাফির দায়িত্বে বাসব মল্লিক এবং সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিসর্জন’ নাটককে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার পেছনে রয়েছে এক গভীর ভাবনা। জয়রাজের মতে, এই নাটক আজকের সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এটি সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলে, যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধেও সরব। তাঁর বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথ যখন এটি লিখেছিলেন, তখন যেমন তাৎপর্য ছিল, বর্তমান সময়ে সেই প্রাসঙ্গিকতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ক্ল্যাসিক হওয়ার কারণে নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সংলাপ তৈরি করার ক্ষমতাই এই নাটককে বেছে নেওয়ার মূল কারণ।
মস্কোতে প্রদর্শনের পর ছবিটিকে আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে নির্মাতাদের। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে দেশের মাটিতে মুক্তি নিয়ে। জয়রাজ স্পষ্টই বলছেন, একজন নির্মাতা হিসেবে তাঁর লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছনো। তিনি চান ছবিটি ভারতে, বিশেষ করে বাংলায় মুক্তি পাক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা ছবির প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছনো কতটা সহজ, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
ছবির সম্পাদক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। তাঁর নিজের ছবি ‘নধরের ভেলা’ প্রচলিত ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে মফস্বলের নানা প্রেক্ষাগৃহে নিজস্ব উদ্যোগে প্রদর্শিত হচ্ছে, তা এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। জয়রাজেরও বিশ্বাস, বড় প্রযোজনা সংস্থার সমর্থন না থাকলেও এই স্বাধীন পথেই তাঁদের ছবিও দর্শকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব। সম্মিলিত উদ্যোগে তৈরি এই ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই টিমের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের আশাবাদ।
‘বিসর্জন’ নন-কম্পিটিটিভ বিভাগে প্রদর্শিত হবে। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে কলকাতা থেকে মস্কোর উদ্দেশে রওনা দিতে চলেছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী, পরিচালক জয়রাজ, সিনোমাটোগ্রাফার বাসব মল্লিক, এবং দুই প্রযোজক শুভদীপ মজুমদার ও শৌনক সুর।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই তৈরি। এখন দেখার, বিশ্বদরবারে প্রশংসা কুড়োনোর পর ‘বিসর্জন’ কি নিজের ঘরের দর্শকের কাছেও সমানভাবে পৌঁছতে পারবে—নাকি সেই পথই হয়ে উঠবে সবচেয়ে কঠিন লড়াই?