ছবির মূল চরিত্র লেখক জয়, যিনি তাঁর প্রকাশিকা নয়নতারার চাপের মধ্যে নিজের সেরা গল্প লেখার চেষ্টা করছেন

শেষ আপডেট: 10 April 2026 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে পরিচালক পাবলোর নতুন বাংলা ছবি ‘রঞ্জন আসছে’ (ranjan ashche, bengali film, new bangla movie)। ছবিতে একাধিক স্তরের গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ব্যক্তি, সম্পর্ক এবং প্রতিবাদের জটিল সমীকরণ।
ছবির মূল চরিত্র লেখক জয়, যিনি তাঁর প্রকাশিকা নয়নতারার চাপের মধ্যে নিজের সেরা গল্প লেখার চেষ্টা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজের স্ত্রী মন্দাক্রান্তাকে কল্পনায় ‘রেবতী’ হিসেবে গড়ে তোলেন—একজন শান্ত, ধর্মবিশ্বাসী এবং কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী। কিন্তু বাস্তবে মন্দাক্রান্তার ভেতরে তৈরি হয় আরেকটি সত্তা ‘মায়া’, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এই দুই সত্তার টানাপড়েন গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আসে নিশীথ চরিত্রটি। তার উপস্থিতির পরই ‘রঞ্জন’-এর ধারণা সামনে আসে, যা কোনও নির্দিষ্ট মানুষ নয়, বরং প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং এক ধরনের জাগরণের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
পরিচালক জানিয়েছেন, ২০২২ সালে ছবির কাজ শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলার পর ২০২৫-এর শেষে চিত্রনাট্য চূড়ান্ত হয়। বোলপুরে সম্পূর্ণ শুটিং শেষ হয়েছে। কাস্ট এবং ক্রু-র সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কাজ সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানো হবে, তারপর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
ছবিতে অভিনয় করেছেন সত্যকাম আনন্দ (জয়), মৌ (মন্দাক্রান্তা), যুধাজিৎ সরকার (নিশীথ), শ্রীতমা দে (নয়নতারা), দীপক হালদার এবং শুভঙ্কর ঘটক। অভিনেতাদের বক্তব্যেও ছবির বিষয়বস্তু স্পষ্ট। যুধাজিৎ জানান, এটি এমন একটি ছবি যা সমাজেঅনেকেই বলতে না পারা কথাগুলো তুলে ধরে।
শ্রীতমা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিফলন রয়েছে এই ছবিতে এবং “রঞ্জন কে”—এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীপক হালদারের মতে, এখন যখন অনেকেই প্রশ্ন করতে ভয় পান, এই ছবি সেই সাহস জোগাতে পারে। সত্যকাম আনন্দ এই কাজটিকে তাঁর কাছে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ভাষার সীমা পেরিয়ে তিনি চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন। মৌ-এর কথায়, “রঞ্জন একটি অনুভূতি, একটি বিপ্লব, একটি চিৎকার।”
সব মিলিয়ে “রঞ্জন আসছে” শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং একটি সামাজিক বক্তব্য হিসেবেও উঠে আসতে চায়।
এখন দেখার, দর্শক এই ‘রঞ্জন’-কে কীভাবে গ্রহণ করেন—এটি কি শুধুই পর্দার চরিত্র হয়ে থাকবে, নাকি আরও বড় কোনও আলোচনার সূত্রপাত ঘটাবে?