Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালকনববর্ষে স্মৃতির পাতায় ফিরলেন সাবিত্রী, বললেন—“আগে এত উদযাপন ছিল না”'আইপিএলের বাতিল ক্রিকেটাররাই পিএসএলে আসে!’ বোমা ফাটালেন খোদ পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা

Big News: ‘ব্যান কালচার’-এর ইতি! অভিনয়ে ফিরবেন অনির্বাণ? কিন্তু সত্যিই কি সব মিটল...

অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ—প্রায় ১৬টি পয়েন্টে তুলে ধরা হয়েছিল বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশের অবনতি, বাধা এবং ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের কথা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই মামলা ফেডারেশনের জন্য বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছিল।

Big News: ‘ব্যান কালচার’-এর ইতি! অভিনয়ে ফিরবেন অনির্বাণ? কিন্তু সত্যিই কি সব মিটল...

শুভঙ্কর চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: 9 April 2026 16:52

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডে এক অস্বস্তিকর অচলাবস্থার মাঝেই হঠাৎ মোড় বদল। গত বছর ডিসেম্বরেই পরিচালক গিল্ড (Directors’ Association of Eastern India, DAEI) সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নেমে Competition Commission of India-এর দ্বারস্থ হয়েছিল ফেডারেশন (Federation of Cine Technicians & Workers of Eastern India)-র বিরুদ্ধে। অভিযোগের তালিকা ছিল দীর্ঘ—প্রায় ১৬টি পয়েন্টে তুলে ধরা হয়েছিল বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশের অবনতি, বাধা এবং ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের কথা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই মামলা ফেডারেশনের জন্য বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছিল।

আইনি দিকটা স্পষ্ট—ডিরেক্টরদের সংগঠন সরাসরি সিসিআই-তে মামলা দায়ের করেছিল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। ২০০৩ সালের ১৪ অক্টোবর গঠিত এই সংস্থা দেশের বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখা, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে। প্রয়োজনে জনসচেতনতা বাড়ানো থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করে তারা। ফলে টলিউডের এই সংঘাত জাতীয় পর্যায়ে নজরে চলে গিয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই সামনে আসে আরও কিছু অস্বস্তিকর তথ্য। জানা যায়, সিসিআই মামলায় যুক্ত থাকার কারণে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)-কে নাকি বয়কটের মুখে পড়তে হয়েছে। একই পরিস্থিতির শিকার হন পরিচালক সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy)-ও। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই ‘ব্যান কালচার’ কি সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে গভীর শিকড় গেড়েছে?

কিন্তু হঠাৎই আবহাওয়া বদলে যায় এক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। গত ৭ এপ্রিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-র অকাল প্রয়াণ যেন পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়া দেয়। সেই আবেগঘন পরিস্থিতিতে প্রযোজক-অভিনেতা তথা সাংসদ দেব (Dev) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—“এবার ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ হোক।” তাঁর কথায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) আশ্বাস দিয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন কাজের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)-এর সঙ্গে আলোচনা হবে।

দেব আরও বলেন, “আমরা আর আলাদা আলাদা ফোরাম নই, আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি। অনেকেই নিষিদ্ধ হয়ে বসে আছেন—এই অবস্থার শেষ হওয়া দরকার। রাহুলের মৃত্যু আমাদের বুঝিয়েছে, শুধু মৃত্যু নয়, কাজ করতে না পারাটাও কত বড় যন্ত্রণা।”

ঠিক এই সময়, ৯ এপ্রিল ডিরেক্টরদের সংগঠনের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয় প্রসেনজিৎকে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তাঁরা সিসিআই-তে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, পৃথকভাবে দায়ের হওয়া ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাগুলিও তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। তবে এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—যে সব নিষেধাজ্ঞা এতদিন ধরে পরিচালক ও অভিনেতাদের কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছেন তাঁরা।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সমস্যার কারণে ডিএইআই-এর অন্তত ৩৫৮ জন সদস্য পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সমাধান চাইলে তা হতে হবে পারস্পরিক এবং নীতিগত ভিত্তিতে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা আশাবাদী—প্রসেনজিতের নেতৃত্বে একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
এই চিঠির পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন দেব। তিনি লেখেন, ডিরেক্টরদের এই সিদ্ধান্তে তিনি কৃতজ্ঞ, এবং এতে শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্যই এক নতুন পথ খুলছে। তাঁর কথায়, “সিনেমা সহযোগিতার শিল্প—এখানে পারস্পরিক সম্মান আর বোঝাপড়া ছাড়া এগোনো যায় না। এখন সময় এসেছে নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি ছেড়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির।” 

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”

সব মিলিয়ে, কয়েক দিনের মধ্যে টলিউডে এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে—আইনি লড়াই থেকে আলোচনার টেবিলে ফেরা, নিষেধাজ্ঞা থেকে সহাবস্থানের বার্তা। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—এই ‘শান্তি’ কি স্থায়ী, নাকি সাময়িক চাপের ফল? আগামী দিনে কি সত্যিই ভাঙবে ‘ব্যান কালচার’, নাকি আবারও ফিরে আসবে সেই পুরনো অচলাবস্থা?


```