সেই সময়ে নববর্ষ মানেই টলিউডের নিজস্ব এক বিশেষ আয়োজন—নতুন ছবির মহরত। স্টুডিও চত্বরে সেই অনুষ্ঠান ঘিরেই থাকত ব্যস্ততা। তবে সেই স্মৃতিতেও আছে খানিক আক্ষেপের সুর। অভিনেত্রীর কথায়, “অনেক সময় মহরত হয়েছে, কিন্তু সেই ছবি আর তৈরি হয়নি—এমন ঘটনাও কম দেখিনি।” একরকম নস্টালজিয়ার সুরেই যেন ফিরে এল বাংলা ছবির সেই দিনগুলি।

শেষ আপডেট: 15 April 2026 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নববর্ষের সকাল মানেই এখন শহরজুড়ে উৎসবের মেজাজ। টলিপাড়াও তার ব্যতিক্রম নয়—বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিড় জমিয়েছেন একঝাঁক শিল্পী। সেই আবহেই সকলের নজর কেড়েছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (Sabitri Chatterjee)। সাদামাটা উপস্থিতি, মিষ্টি হাসি—আর সবার জন্য একরাশ আন্তরিক শুভেচ্ছা। তাঁর কথায়, “সবাইকে নববর্ষের প্রীতি শুভেচ্ছা জানাই। বছরটা যেন ভাল কাটে, সবাই ভাল থাকুন।”
তবে বর্তমানের এই রঙিন, সরগরম উদযাপনের মাঝেই বারবার ফিরে আসছিল অতীতের ছবি। স্মৃতির খাতায় চোখ রেখে সাবিত্রী জানালেন, তাঁদের সময়ে নববর্ষের এতটা বাহুল্য বা আলাদা করে উদযাপনের রীতি ছিল না। “এখন তো রাস্তায় নামলেই বোঝা যায়—গান বাজছে, অনুষ্ঠান হচ্ছে, চারিদিকে উৎসবের আবহ। আমাদের সময়ে কিন্তু বিষয়টা এতটা চোখে পড়ত না,” বললেন তিনি।
বরং সেই সময়ে নববর্ষ মানেই টলিউডের নিজস্ব এক বিশেষ আয়োজন—নতুন ছবির মহরত। স্টুডিও চত্বরে সেই অনুষ্ঠান ঘিরেই থাকত ব্যস্ততা। তবে সেই স্মৃতিতেও আছে খানিক আক্ষেপের সুর। অভিনেত্রীর কথায়, “অনেক সময় মহরত হয়েছে, কিন্তু সেই ছবি আর তৈরি হয়নি—এমন ঘটনাও কম দেখিনি।” একরকম নস্টালজিয়ার সুরেই যেন ফিরে এল বাংলা ছবির সেই দিনগুলি।
খাওয়াদাওয়া কিংবা নতুন পোশাক—এসব নিয়েও বর্তমান আর অতীতের ফারাক স্পষ্ট তাঁর কথায়। জানালেন, বাড়িতে যা রান্না হত, সেটাই ছিল উৎসবের অংশ। আলাদা করে কোনও বিশেষ মেনুর কথা মনে পড়ে না। এখন অবশ্য শরীরের কথা ভেবে অনেক কিছুই এড়িয়ে চলেন। আর নতুন জামাকাপড়? সে স্মৃতিও বেশ আলাদা। “নববর্ষে নতুন জামা পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। পুজোতেই নতুন জামা হত,” হাসতে হাসতেই জানালেন তিনি।
সময়ের স্রোতে বদলে গিয়েছে উদযাপনের ধরন—বেড়েছে আয়োজন, বেড়েছে উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। তবু সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের কথায় ধরা পড়ে যায় এক অন্য সময়ের সহজ-সরল ছবি, যেখানে উৎসব ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু অনুভূতিতে ভরপুর।