শৈশব থেকেই সঙ্গীতের পাশাপাশি রান্নার প্রতি ঝোঁক ছিল আশার (Asha Bhosle)। বাবার থিয়েটার দলের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের স্বাদ, ধরণ, রীতি শিখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ও শেখা তাঁর হাতের রান্নায় ফুটে উঠেছিল।

প্রয়াত আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 12 April 2026 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) আর নেই। তবে তাঁর চলে যাওয়ার পরও রয়ে গেছে অসংখ্য স্মৃতি। গানের পাশাপাশি খাবারের প্রতি তাঁর অগাধ ভালবাসা অজানা নয়। বিশেষ করে তাঁর হাতে তৈরি চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani) যে কত মানুষের মন জয় করেছে, সেই গল্প আজও শোনা যায় পরিবার, বন্ধু, সহকর্মীদের মাঝে। আশা নিজেই বলেছিলেন, “গান যেমন ভালবাসা দিয়ে গাইতে হয়, রান্নাও তেমনই ভালবাসা দিয়ে করতে হয়।” এই সহজ দর্শনই তাঁর জীবনকে আলাদা করে তুলেছিল।
শৈশব থেকেই সঙ্গীতের পাশাপাশি রান্নার প্রতি ঝোঁক ছিল আশার (Asha Bhosle)। বাবার থিয়েটার দলের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের স্বাদ, ধরণ, রীতি শিখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ও শেখা তাঁর হাতের রান্নায় ফুটে উঠেছিল। পরবর্তীতে তাঁর এই আগ্রহই তাঁকে তৈরি করেছিল এক সফল রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা হিসেবে। ব্রিটেন ও পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East) তাঁর রেস্তরাঁ চেইন Asha’s বেশ জনপ্রিয়, আর কিংবদন্তি শিল্পীর হাতের ছোঁয়া সেখানেও উজ্জ্বল।
তাঁর তৈরি চিকেন বিরিয়ানি ছিল যেন ভালবাসার ভাষা। স্বামী, কিংবদন্তি সুরকার আর. ডি. বর্মন (R. D. Burman) থেকে শুরু করে পরিবার, ঘনিষ্ঠজন, এমনকি আন্তর্জাতিক তারকারাও পেয়েছেন সেই অনন্য স্বাদ। বিরিয়ানি তৈরি করতেন যত্নের সঙ্গে- সেরা উপকরণ বাছাই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিয়ে রান্না, আর প্রতিটি স্তরে মেশানো তাঁর মমতা। তাই যারা তাঁর রান্না একবার খেয়েছেন, তাঁরা শুধু স্বাদই পাননি, পেয়েছেন আশার স্নেহ, যত্নের অনুভূতি।
আশা ভোঁসলের চিকেন বিরিয়ানির রেসিপি জানেন?
বাদামের পেস্ট, বেরেস্তা, সুগন্ধি গরম মশলা, জাফরানের দুধ এবং নিখুঁত দমে স্তরে স্তরে সাজানো চাল ও চিকেন- সব মিলিয়ে সেই বিরিয়ানি ছিল এক নিখুঁত শিল্প। শুধু রান্না নয়, কীভাবে পরিবেশন করলে খাবারের সৌন্দর্য বাড়ে, তাও তিনি জানতেন। টেবিলে পাত্র খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসা পুদিনা ও ধনেপাতার সুবাস যেন তাঁর উপস্থিতিকেই অনুভব করাত।
আজ যখন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছে, তখন তাঁর রান্নাঘর, খুনসুটি, হাসি আর ভালবাসা দিয়ে তৈরি খাবারের গল্পও আপনজনেদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। গানের মতোই তাঁর রান্নাও ছিল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার এক অনন্য মাধ্যম।
৯২ বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে গেলেও সঙ্গীত ও রান্নার জগতে তাঁর ছাপ চিরকাল অমলিন থাকবে। তাঁর কণ্ঠ যেমন অমর, তেমনই অমর হয়ে থাকবে তাঁর তৈরি চিকেন বিরিয়ানির স্মৃতি।