একই পরিবারে জন্ম, একই সুরের পরিবেশে বড় হওয়া- তবু তাদের যাত্রাপথ ছিল আলাদা। লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে ছিল একধরনের স্থিরতা, যা ভারতীয় সিনেমার আবেগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।

লতা মঙ্গেশকর-আশা ভোঁসলে
শেষ আপডেট: 13 April 2026 14:56
৯২-এটা শুধু একটি সংখ্যা নয়, যেন এক যুগের শেষের প্রতীক। ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশে জ্বলজ্বলে দুই নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar) এবং আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle), দু’জনের জীবনই থেমেছে এই একই সংখ্যায় এসে। কেবল কাকতালীয় নয়- গোটা দেশের সুর, আবেগ, স্মৃতি আর ইতিহাস যেন ৯২ সংখ্যার ভেতরে এক মহাকাব্যের মতো বন্দি হয়ে রইল। একদিকে লতা- স্বর্ণকণ্ঠের বিদায়, অন্যদিকে আশার বহুরূপী সুরযাত্রার পরিসমাপ্তি- দুই বোনের জন্যই এই সংখ্যা যেন এক যুগের দরজা নিঃশব্দে বন্ধ হওয়ার মতো।
একই পরিবারে জন্ম, একই সুরের পরিবেশে বড় হওয়া- তবু তাদের যাত্রাপথ ছিল আলাদা। লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে ছিল একধরনের স্থিরতা, যা ভারতীয় সিনেমার আবেগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে আশা ভোঁসলে ছিলেন সাহসী, বহুমুখী- ক্যাবারে থেকে গজল, পপ থেকে ক্লাসিক্যাল, সবকিছুতেই নিজের ছাপ রেখে গেছেন।
লতা ও আশা, দুজনেরই সুরের যাত্রা এসে থামল ৯২ বছর বয়সে। এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি সুরের জগতেই লুকিয়ে আছে এই রহস্যময় সমতা? এই ৯২ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়- এটা এক বিশাল উত্তরাধিকার। কয়েক দশক জুড়ে অসংখ্য গান, অগণিত আবেগ, কোটি মানুষের স্মৃতি- সব মিলিয়ে এই সংখ্যা যেন হয়ে ওঠে এক পূর্ণতা। যেন তাঁরা দুজনেই নিজেদের সুরের যাত্রা সম্পূর্ণ করে, ঠিক একই সংখ্যায় এসে বিরতি নিলেন।
লতা মঙ্গেশকর
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম লতা মঙ্গেশকরের। ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পে আট দশকের বেশি সময় অবদানের জন্য তিনি 'সুরের রাণী', 'ভারতের পাপিয়া'-সহ একাধিক উপাধি পেয়েছেন। ২০২২ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।
আশা ভোঁসলে
১৯৩৩ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর জন্ম আশার। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন কিংবদন্তি শিল্পী।
লতা ও আশার বয়সের পার্থক্য ৪ বছর। পিতৃ বিয়োগের পর সংসারের হাল ধরেন বড়দি লতা। দিদির হাত ধরেই ছায়ার মতো মুম্বাইয়ের স্টুডিও পাড়ায় ঘোরাঘুরি শুরু কিশোরী আশার। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি 'মাঝা বাই'-তে প্রথম কণ্ঠদান করেন তিনি। ১৯৪৮ সালে 'চুনারিয়া' ছবির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর হিন্দি ছবির সফল জয়যাত্রা।