এই দুর্ঘটনার পর থেকেই উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়, সমানভাবে আলোচনায় এসেছে আরও এক নাম— রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র (Sweta Mishra)।

শেষ আপডেট: 10 April 2026 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৯ মার্চের বিকেলটা যেন এখনও থমকে রয়েছে টলিউডের স্মৃতিতে। তালসারির সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের সেই দিনের শুটিং মুহূর্তেই পরিণত হয় মর্মান্তিক শোকে।
এই দুর্ঘটনার পর থেকেই উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়, সমানভাবে আলোচনায় এসেছে আরও এক নাম— রাহুলের সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র (Sweta Mishra)। তিনি একই পরিস্থিতিতে থেকেও কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে। অনেকেই তাঁর মুখ খোলার অপেক্ষায় দিনগুনছেন। জানতে চাইছেন, ঠিক কী ঘটেছিল, কেউ বা সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁকেই। ফলে শোকের পাশাপাশি টলিপাড়ার অন্দর ঘিরে তৈরি হয়েছে চাপা বিতর্কও।
এই পরিস্থিতিতেই শ্বেতার পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী (Anindita Raychaudhury)। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি লিখেছেন, শ্বেতা এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে “সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন”— আর এই সময় তাঁর কাছের মানুষেরা তাঁকে আগলে রাখছেন, রাখবেনও। অনিন্দিতার কথায়, ওই দিনের ঘটনা নিয়ে যা বলার, শ্বেতা তা আইনসম্মত পথেই বলবেন। অভিনেত্রীর বিশ্বাস, শ্বেতার মানসিক দৃঢ়তা রয়েছে, এবং সময়মতো সত্য সামনে আসবে।
তবে তাঁর লেখার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল মানবিক আবেদন। শ্বেতার বেঁচে ফেরাকে ‘অভিশাপ’ হিসেবে না দেখার উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন— কেন সে মানুষ বেঁচে ফিরল, এই ধরনের নির্মম ও অস্বাভাবিক জিজ্ঞাসা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? বরং তাঁর মতে, এই ঘটনাকে ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে দেখেই তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করা উচিত।
তিনি লেখেন, ‘কিন্তু ভীষণ তাড়াহুড়ো করে ভীষণ উদগ্রীব হয়ে সত্যি উদঘাটনের নেশায় বারবার ও কেন কিছু বলছে না, কেন ও চুপ করে আছে, কেন শাড়ি পরেও ও বেঁচে গেল, কেন বেঁচে ফিরল- এইসব অস্বাভাবিক পাশবিক প্রশ্ন করে শ্বেতার বেঁচে ফেরাটাকে অভিশাপের মতো করে নাই বা দেখলেন সবাই, ওর এই দ্বিতীয় জন্মটাকে সুস্থভাবে বাঁচতে দিন।’
রাহুলের মৃত্যু ঘিরে তদন্ত এখনও চলমান। তাঁর অনুরাগী, সহকর্মী থেকে পরিবার— সকলেই যেমন ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন, তেমনই এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের মানসিক অবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময়ে অনিন্দিতার বার্তা একটা বিষয় স্পষ্ট করে— সত্য উদঘাটনের দায় আইনের, সকলের তা জানার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু সহমর্মিতা হারিয়ে ফেললে চলবে না।