অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী রূপালি রায় ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর শেয়ার করা ঘটনাগুলি রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।

শেষ আপডেট: 7 April 2026 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee Death) অকাল মৃত্যুর পর টলিউডে যেন জমে থাকা ক্ষোভ একে একে ফেটে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে শুটিং সেটে নিরাপত্তাহীনতা ও অমানবিক আচরণের যে অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল, তা এখন প্রকাশ্যে আনছেন শিল্পীরা নিজেরাই। একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁদের জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন, যা নতুন করে নাড়িয়ে দিচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিকে।
অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের পর এবার নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন অভিনেত্রী রূপালি রায় ভট্টাচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর শেয়ার করা ঘটনাগুলি রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। কয়েক বছর আগে একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনিশিয়ান স্টুডিও-তে উপস্থিত হলেন তিনিও।
কোন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল তাঁকে? রূপালির কথায়, কনকনে শীতের মধ্যে তিস্তার জলে গলা পর্যন্ত ডুবে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়েছিল তাঁকে। পরিচালকের নির্দেশ মেনে জলে নামলেও শুটিং শুরু হতে দীর্ঘ দেরি হয়। সেই সময় পরিচালক সেটেই উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় দেড় ঘণ্টা ঠান্ডা জলে থাকার ফলে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যে, স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষমেশ এক সহকারী পরিচালকের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এরপরও একই প্রজেক্টে আরও একবার বিপদের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কলকাতার একটি শুটিং ফ্লোরে হার্নেসে ঝুলিয়ে রেখে ইউনিটের অনেকেই সেখান থেকে সরে যান। সাহায্যের জন্য বারবার ডাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ সেই অবস্থায় আটকে থাকার পর এক টেকনিশিয়ানের উদ্যোগেই মুক্তি পান তিনি।
রূপালি আরও জানিয়েছেন, ওই ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিংয়েও তাঁকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল। বারবার একই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর অভিযোগ, শুটিং সেটে অনেক সময়ই শিল্পীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায় না।
এই সমস্ত অভিজ্ঞতা সামনে আসতেই টলিউডে নতুন করে শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আলোচনা। শিল্পীদের একাংশের দাবি, এবার সময় এসেছে কঠোর নিয়মাবলি চালুর, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও শিল্পীকে এমন ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে না হয়।