আসলে কিং কোহলি সেই ভরসার নাম, যে সচিনের বিদায়ের পরে তার হাতের মশালটা নিয়ে দৌড়তে শুরু করেছিল।

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 18:05
সর্বকালের সেরা ভারতীয় ক্রিকেটার কে? ক্রিকেট মসনদের ময়ূর সিংহাসনের দাবিদার কে? বিরাট কোহলিকে নিয়ে লিখতে বসে যদি আবেগের বশে তাঁর নামটা বলে ফেলি, তাহলে মুম্বইয়ের সেই অতিমানবকে অসম্মান করা হবে। তাঁর নাম সচিন রমেশ তেন্ডুলকর।
তাহলে কোহলি কে? হয়তো সেই ছেলেটা, যে ১৮ বছর বয়সে এক সকালে জানতে পারল, তার বাবা মারা গেছে ভোররাতে। সে বাড়ি গেল সন্ধেতে। সারাদিন রঞ্জি খেলে দুরন্ত ৯০ বানিয়ে, দিল্লিকে ফলোঅনের কবল থেকে বাঁচিয়ে। ২০০৮-এ একটা সিরিজ খেলেই ভারতীয় দল থেকে বাদ গেল ছেলেটা। এক বছর বাদে দলে ফিরল। মধ্যের এক বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে এত রান বানাল যে জাতীয় দলের দরজাটা আর কাউকে খুলতে হয়নি। ও ভেঙে ঢুকে গিয়েছিল।
সেই দৌড়ের শুরু। ২০১৪-তে ছেলেটা হোঁচট খেল ভালোমতো। ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে গিয়ে নাকানিচোবানি খেল অ্যান্ডারসনের সামনে। যদিও গল্পের শেষ লাইনটা কিন্তু কোহলিই লিখল। ২০১৮-তে ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে সেই অ্যান্ডারসনকে ঠেঙিয়ে সিরিজে ৫৯৩ রান করল।
চ্যাম্পিয়ন কারা হয় বলুন তো? যারা সারাক্ষণ জেতে?
না। চ্যাম্পিয়ন তারাই, যারা হারে, শিক্ষা নেয়, ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়ায়। আর প্রতিপক্ষকে এক পাঞ্চে নকআউট করে দেয়। যারা যে-কোনও সময় কামব্যাক করার ক্ষমতা রাখে ।বিরাট কোহলি যা বহুবার করেছেন। যতবার তাঁকে বাতিলের দলে ফেলা হয়েছে, ততবার দেখিয়েছেন যে চাইলেই রাজার মতো ফিরে আসা যায়। শচীন ঈশ্বরতুল্য। আজীবন মাঠে গালমন্দ করেননি। মাঠের বাইরে বা ভেতরে কোনোদিন ঝামেলায় জড়াননি। বিরাট সেখানে একদমই রক্তমাংসের মানুষ। ঝামেলায় জড়িয়েছেন বারবার। আগ্রাসনকে অনেকে ঔদ্ধত্য হিসেবে গণ্য করেছে। কিন্তু আগ্রাসনটাই তো দিল্লীর মিরাবাগের মধ্যবিত্ত পরিবেশে বড় হওয়া চিকুর সম্বল ছিল। ওটাই পিঠে ঘা মেরে মেরে ওকে এতদূর এনেছে। চিকু থেকে বিরাট বানিয়েছে।
আসলে কিং কোহলি সেই ভরসার নাম, যে সচিনের বিদায়ের পরে তার হাতের মশালটা নিয়ে দৌড়তে শুরু করেছিল। যে দৌড়টা ভীষণ দরকারী ছিল। যে দৌড়টা থেমে গেলে হয়তো ভারতের সাধারণ মানুষ সেদিন ম্যাজিকে বিশ্বাস করা ছেড়ে দিত। ম্যাজিক যেমন সচিন দেখিয়েছেন, বিরাটও কিছু কম করেননি। সেই কারণেই বিরাট আমাদের রাজা। ‘কিং’ কোহলি। আমাদের মনটাই তাঁর ময়ূর সিংহাসন।