অনেকের এও মত যে, সিম বোলার-অলরাউন্ডারের যে বিরল মণিকাঞ্চন যোগ ক্রমশ বিলুপ্ত হতে বসেছে, বেন স্টোকস সম্ভবত তার শেষতম প্রতিনিধি।

বিরাট কোহলি ও বেন স্টোকস
শেষ আপডেট: 19 June 2025 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগ্রাসন। বিনোদন। জয়।
এই তিনটি মন্ত্রেই শুধু দল নয়, টেস্ট ক্রিকেটের দর্শন বদলে দিয়েছেন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের অধিনায়ক। ২০২২ সালে টিম যখন ঘরে-বাইরে একের পর এক সিরিজ হারতে হারতে প্রায় কোমায় চলে যায়, তখনই অধিনায়কের কুর্সিতে বসেন বেন স্টোকস। কোচের গদিও যায় বদলে। আসন দখল করেন নিউজিল্যান্ডের একদা মারকুটে ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাকালাম।
দুজনে মিলে নতুন ধাঁচের ক্রিকেট আমদানি করেন। যার মূল রসই হচ্ছে আগ্রাসন ও বিনোদন। আর অন্তিম লক্ষ্য ‘জয়’। টেস্টে ড্র একটা অপশন হলেও তাতে স্টোকস-ম্যাকালাম পরিচালিত ইংরেজ টিমের তেমন মতি নেই। হার আর জিতের আধাআধি সুযোগ থাকলে জয়ের জন্য ঝাঁপাও। এটাই হচ্ছে আগ্রাসী ক্রিকেট, যাকে সংবাদমাধ্যম ‘বাজবল’ আখ্যা দিয়েছে, তার আসল কথা।
মাঠ যেমন হোক, পরিস্থিতি অনুকূল-প্রতিকূল যাই হোক না কেন, দর্শন বদলানো যাবে না। যার নিট ফল ৩৩ ম্যাচে ২০ জয়, ১২ পরাজয়, ১টি ড্র। এই দৃষ্টিভঙ্গি যে সমালোচনার ঊর্ধ্বে, এমনটা নয়। অনেকেই এই অতি-আগ্রাসী মেজাজের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে গত বছর ভারতে প্রথম ম্যাচ জিতেও যেভাবে ৪-১-এ সিরিজ হারে দল, তাতে বাজবলকে কচুকাটা করে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মহল। তবু সেই পথ ছাড়তে নারাজ স্টোকস।
আগামিকাল থেকে শুরু হতে চলেছে ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের লড়াই। প্রতিপক্ষ শিবিরে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো ধুরন্ধর সৈনিক নেই। ইংরেজ অধিনায়ক মেনে নিয়েছেন, তাতে তাঁদের বেশ খানিকটা সুবিধেই হয়েছে। যদিও ভারতীয় দলের যা গভীরতা, তাতে হারানো যে সহজ হবে না। অকপটে স্বীকার করেছেন স্টোকস।
বিশেষ করে কোহলি, ব্যাট হাতে তো বটেই, মাঠে নামা ইস্তক যিনি হাত-পা নেড়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন, প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান আউট হলে সোল্লাসে সেলিব্রেট করেন, বোলারদের পিঠ চাপড়ে উৎসাহ যোগান, তাঁর অনুপস্থিতির অভাব অনুভব করবেন বিপক্ষ শিবিরের অধিনায়ক। কেরিয়ারে ছ’বার বিরাটকে আউট করেছেন ইংরেজ অলরাউন্ডার। বেশ কয়েকবার বাদানুবাদেও জড়িয়েছেন। তবু কোহলির ক্যারিশমা স্বীকারে এতটুকু কুণ্ঠিত নন স্টোকস। বলেছেন, ‘ক্রিকেট ও ভারতীয় দল—দু’জায়গাতেই পারফরম্যান্স ছাড়াও বিরাট আমদানি করেছিল দুটি জিনিস। এক, উদ্যম। দুই, নাটকীয়তা। ও টিমের ভাল চাইত বলেই সারাক্ষণ তেতে।’
বিরাট কোহলি টেস্টকে বিদায় জানিয়েছেন। বছর চৌত্রিশের বেন স্টোকসের সামনে কিন্তু নিজের কেরিয়ার সামনে টেনে নিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ এবং তারপর অ্যাসেজই তাঁর অধিনায়কত্বের ভবিতব্য গড়ে দিতে পারে। একথা মেনে নিয়েও স্টোকসের মন্তব্য, ‘আমি জানি কোথায়, কতদূর পর্যন্ত দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আমরা ভাল খেলছি। কিন্তু শীর্ষ ছুঁতে চাই। আমি নিজের হৃদয় ও সর্বস্ব ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে দিতে প্রস্তুত।’
অনেকের এও মত যে, সিম বোলার-অলরাউন্ডারের যে বিরল মণিকাঞ্চন যোগ ক্রমশ বিলুপ্ত হতে বসেছে, বেন স্টোকস সম্ভবত তার শেষতম প্রতিনিধি। এই তকমা ও স্বীকৃতিতে এতটুকু স্বচ্ছন্দ নন তিনি। লাজুক হেসে পাশ কাটিয়ে জবাব দিয়েছেন, ‘যদি একটিমাত্র জিনিসে সেরার সেরা হই, সেটা খাবার খাওয়ায়। আমি প্রচুর ভাল খাবার অনায়াসে খেতে পারি।’