স্কোরলাইনে দেখলে খুব কঠিন লড়াই নয়। কিন্তু গাভাসকরের চোখে, এই হিসেব বিভ্রান্তিকর। কারণ, পারফরম্যান্সে ধরা পড়েছে টিম ইন্ডিয়ার একাধিক দুর্বলতা।

গাভাসকর ও অভিষেক
শেষ আপডেট: 8 February 2026 11:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জয় এল। পয়েন্ট টেবিলে দু’পয়েন্ট যোগ হল। তবু আমেরিকার বিরুদ্ধে টি–২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ (T20 World Cup) ভারতকে স্বস্তি জোগাল না। বরং, এই খেলায় আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল টিম ইন্ডিয়ার (Team India) সেই পুরনো অসুখ—টপ অর্ডারের হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়া! সেই অসুখের কথাই এবার সামনে আনলেন প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar)।
ব্যাটিং গভীরতা থাকলেও শুরুর ধাক্কা ভয়ঙ্কর
গাভাসকরের বক্তব্যে কোনও ঘুরপথ নেই। তাঁর মতে, ভারতের ব্যাটিং গভীরতা নিঃসন্দেহে শ্লাঘনীয়। আটজন ব্যাটার নিয়ে নামা দল আত্মবিশ্বাসী হবেই। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস যদি বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তাহলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। আমেরিকার (USA) বিরুদ্ধে সেটাই হয়েছে। পাওয়ারপ্লের মধ্যে চার উইকেট পড়ে যাওয়ার অর্থ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা। গাভাসকরের স্পষ্ট সতর্কতা—‘ভাল, অভিজ্ঞ দলগুলোর বিরুদ্ধে এভাবে শুরু করলে ম্যাচ হাতছাড়া হতে বেশি সময় লাগবে না।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। প্রাক্তন ক্রিকেটারের কথায়, ‘বিশ্ব ইভেন্টে সবাই নিজের সেরা খেলাটা খেলতে নামে। সেখানে ঢিলেমি মানে বিপদ।’
৭৭/৬ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, নেপথ্যে সূর্যকুমার
এই ম্যাচে এক সময় ভারত ছিল ৭৭/৬। ১৬০ তো দূরের কথা, ১৪০ রানও তখন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪—ইনিংস নিঃসন্দেহে অধিনায়কোচিত। কিন্তু গাভাসকর মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এমন উদ্ধারকাজ সব ম্যাচে সম্ভব নয়। প্রতিবার ‘সূর্য’-র দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। শুরুটা ঠিক করতে হবে। উইকেট বাঁচিয়ে খেলতে জানাও জরুরি।
মজার বিষয়, ম্যাচের পর সূর্যকুমার নিজেও স্বীকার করেছেন—জয়ের পরেও অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা আরও ভাল, আরও স্মার্ট ব্যাটিং করতে পারতাম।’ এই আত্মসমালোচনাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের বড় অংশ।
বোলারদের দাপট
গতরাতে ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিলেন ভারতের বোলাররা। মহম্মদ সিরাজ (Mohammad Siraj) ওপেনিং স্পেলে চাপ বাড়ালেন। মাঝের ওভারে আঁটসাঁট বোলিং অক্ষর প্যাটেলের (Axar Patel)। আর শেষ দিকে ঠান্ডা মাথায় কাজের কাজ সেরে ফেললেন অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh)।
১৩২ রানে আমেরিকাকে আটকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩০ রানের জয়। স্কোরলাইনে দেখলে খুব কঠিন লড়াই নয়। কিন্তু গাভাসকরের চোখে, এই হিসেব বিভ্রান্তিকর। কারণ, পারফরম্যান্সে ধরা পড়েছে টিম ইন্ডিয়ার একাধিক দুর্বলতা। বিশ্বকাপের শুরুর লগ্নে এটাই হয়তো জোরালো সতর্কবার্তা। ব্যাটিং গভীরতা আছে, বোলিং শক্তিশালী—তবু টপ অর্ডার যদি বারবার এমনভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় দলের বিরুদ্ধে চাপ সামলানো কঠিন। গাভাসকরের ‘প্রেসক্রিপশন’ সরল—পাওয়ারপ্লেতে উইকেটের দাম বুঝতে হবে। তবেই সত্যিই বিশ্বকাপের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে সূর্য বাহিনী।