আইসিসি বিষয়টি সরাসরি খারিজ না করে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পথেই হাঁটে। সূত্রের খবর, বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা পিসিবির কাছে জানতে চায় - একটি মাত্র ম্যাচে ফোর্স মাজর কীভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, যখন বাকি ম্যাচগুলোয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 February 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বহুচর্চিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ (India Pakistan Match) আদৌ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর পরও পর্দার আড়ালে যে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক নাটক চলছে, তাতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (ICC) অবস্থান।
টি-২০ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়, ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামবে না। যদিও একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোয় অংশগ্রহণ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়। এই ঘোষণার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ‘ফোর্স মাজর’ (Force Majeure) ধারা প্রয়োগের দাবি তোলে। চিঠির সঙ্গে যুক্ত করা হয় সরকারের প্রকাশ্য বিবৃতি, কিন্তু আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা যুক্তি দেওয়া হয়নি।
আইসিসি বিষয়টি সরাসরি খারিজ না করে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পথেই হাঁটে। সূত্রের খবর, বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা পিসিবির কাছে জানতে চায় - একটি মাত্র ম্যাচে ফোর্স মাজর কীভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, যখন বাকি ম্যাচগুলোয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান কী কী বিকল্প ভাবনা বা সমাধান খুঁজেছিল, তাও জানতে চাওয়া হয়।
আইসিসির এই প্রতিক্রিয়ার পর পিসিবি ফের আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আইসিসি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফে প্রথম ঘোষণা আসার পর কয়েকদিন পিসিবির নীরবতা বিতর্ক আরও উস্কে দেয়। পরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করায় বিষয়টি স্পষ্টতই রাজনৈতিক রঙ নেয়।
আইসিসি তাদের চিঠিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফোর্স মাজর প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা সরাসরি সরকারি নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিতে এই ধারা প্রযোজ্য হলেও, তার আগে সব রকম বিকল্প চেষ্টা করা হয়েছে কিনা, তা প্রমাণ করা জরুরি। অযৌক্তিক দাবি করলে আর্থিক ক্ষতি, নিষেধাজ্ঞা বা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগের ঝুঁকিও রয়েছে।
এই ম্যাচ বাতিল হলে আর্থিক ধাক্কাও কম নয়। সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান বিশ্বকাপ ম্যাচ থেকে প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসে। সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টার ও আইসিসি - দু’পক্ষই বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এর মধ্যেই ভারতীয় শিবির জানিয়েছে, সূচি অনুযায়ী তারা শ্রীলঙ্কা সফর ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে। পাকিস্তান মাঠে না নামলে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে টিম ইন্ডিয়া।