অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কলার তুলে জানাচ্ছেন, এই ক্রিকেট তাঁরা খেলছেন ওদের জন্মেরও আগে! অর্থাৎ, ইংরেজদের তথাকথিত আগ্রাসী ক্রিকেট দর্শনের দাবিকে একদম পাত্তা দিতে নারাজ প্রাক্তন অজি উইকেটকিপার-ব্যাটার।

অ্যাডাম গিলক্রিস্ট
শেষ আপডেট: 16 October 2025 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড শিবিরের দাবি, ওরা ‘বাজবলে’র (Bazball) আবিষ্কর্তা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (Adam Gilchrist) কলার তুলে জানাচ্ছেন, এই ক্রিকেট তাঁরা খেলছেন ওদের জন্মেরও আগে! অর্থাৎ, ইংরেজদের তথাকথিত আগ্রাসী ক্রিকেট দর্শনের দাবিকে একদম পাত্তা দিতে নারাজ প্রাক্তন অজি উইকেটকিপার-ব্যাটার।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ওপেনার জ্যাক ক্রলি (Zak Crawley) দাবি করেন, বাজবল নাকি অস্ট্রেলিয়ানদের মেজাজ নষ্ট করে দেয়! গিলক্রিস্ট যদিও হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন সেই তত্ত্ব। কায়ো স্পোর্টসকে (Kayo Sports) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ বছর আগেই বাজবল খেলেছি! এটা ক্রিকেট খেলারই একটা ধরন। না, এটা আমাকে মোটেও বিরক্ত করে না। বরং, দারুণ লাগে দেখতে। খেলাটা জমে উঠুক, সেটাই চাই!’ এর আগে ক্রলি ‘দ্য টাইমস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা যেমন খেলি, তাতে অস্ট্রেলিয়ানরা বিরক্ত হয়। সেটাই আমাদের লাভ। ওরা ‘মোরাল অ্যাশেজ’ (moral Ashes) নিয়ে যে কথা বলেছিল, সেটা এসেছিল ড্রয়ের হতাশা থেকে!’
প্রসঙ্গত, ‘বাজবল’ বলতে বোঝানো হয় ইংল্যান্ডের বিশেষ ক্রিকেট দর্শন—যেখানে আক্রমণই একমাত্র পন্থা। কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (Brendon McCullum) আর অধিনায়ক বেন স্টোকসের (Ben Stokes) আমলে ইংরেজ টিম টেস্টকে বিনোদন আর আগ্রাসনের মিশেলে পরিণত করেছে। তবে সাফল্য খুব ধারাবাহিক নয়। ৪১ ম্যাচে ২৫ জয়, ১৪ হার—এই হল ‘বাজবলে’র হিসেব।
গিলক্রিস্টের পাল্টা বক্তব্যে বার্তা স্পষ্ট—ইংল্যান্ডের এই দর্শন আসলে পুরনো অজি ক্রিকেটের প্রতিধ্বনি মাত্র। দুই দশক আগেই গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেডেন (Matthew Hayden), রিকি পন্টিং (Ricky Ponting), শেন ওয়ার্নদের (Shane Warne) আমলে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রাসনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। ৯৬ টেস্টে ৮২ স্ট্রাইক রেটে ৫,৫৭০ রান করা গিলক্রিস্টের নিজের ব্যাট হয়ে ওঠে সেই দর্শনের প্রতীক।
ইংল্যান্ডের ২০২৩ সালের অ্যাশেজ (Ashes 2023) শেষ হয় ২–২ সমতায়। আসন্ন ২০২৫–২৬ অ্যাশেজের (Ashes 2025–26) আগে দুই দেশের বাগযুদ্ধ কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড (Stuart Broad) তোপ দেগে বলছেন, ‘এই অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত ২০১০ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল, আর এই ইংল্যান্ড সবচেয়ে শক্তিশালী!’ এই আবহে বাজবল-কে গিলির খোঁচা! ইংল্যান্ডের নজরে যা ‘বিপ্লব’, তা-ই অস্ট্রেলিয়ার চোখে পুরনো খাতার নতুন প্রচ্ছদমাত্র!