এটা শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করার গল্প নয়। ক্রিকেট–পাগল বাংলাদেশ, যারা বিশ্বমঞ্চে বরাবর রং ছড়িয়েছে, তারা আজ রাজনীতির চাপে পিছিয়ে।

টিম বাংলাদেশ
শেষ আপডেট: 23 January 2026 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট কার্যত অনিশ্চয়তার গহ্বরে। মাঠের লড়াইয়ের বদলে রাজনীতি, নিরাপত্তা আর ভয়—সব মিলিয়ে এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে ক্রিকেটাররা কথা বলার আগেই চুপ করে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার মুখে বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরাসরি নির্দেশ দেন—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board) ও খেলোয়াড়রা যেন ভারতে সফর না করেন। যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয় নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা। এই নির্দেশের পর নিশ্চিত হয়ে যায়, টি–২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা কার্যত অসম্ভব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council) খুব শিগগিরই স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে ঘোষণা করতে পারে।
এটা শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করার গল্প নয়। ক্রিকেট–পাগল বাংলাদেশ, যারা বিশ্বমঞ্চে বরাবর রং ছড়িয়েছে, তারা আজ রাজনীতির চাপে পিছিয়ে। আইসিসি যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, তখন ক্রিকেটারদের আশা ছিল—সরকার পাশে দাঁড়াবে। বাস্তবে হল উল্টোটা।
ভয়ের শিকড় কোথায়?
এই নীরবতার মূল কারণ একটাই—‘ভয়’। পিটিআই–এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিশেষ একটি ঘটনায় ক্রিকেটাররা বুঝে গিয়েছেন, মুখ খুললে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও দীর্ঘদিনের স্তম্ভ তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)—যিনি শাকিব আল হাসানের পর দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট তারকাদের একজন—তাঁকেই প্রকাশ্যে ‘পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল’ বলা হয়। মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন বোর্ড কর্তা এম নাজমুল ইসলাম, শুধুমাত্র এই কারণে, যে তামিম আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিতে বোর্ডকে পরামর্শ দেন। পরে নাজমুল পদত্যাগ করলেও ক্ষতটা রয়েই যায়।
পিটিআই–কে এক সূত্র জানিয়েছে, ‘আজ যখন খেলোয়াড়রা আসিফ নাজরুলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তখন মূলত তিনিই কথা বলেন। সিনিয়র ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই চুপ করে থাকেন। তাঁদের মনে হয়েছে, তামিম ইকবালের মতো একজনকে যদি এভাবে অপমান করা যায়, তাহলে তাঁদের পরিণতি আরও খারাপ হতে পারে।’\
আর্থিক ধাক্কা ও প্রশাসনিক একাকীত্ব
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে আর্থিক ক্ষতিও বিপুল। হিসেব বলছে, প্রায় ৩২৫ কোটি বাংলাদেশি টাকার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বোর্ড। সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ মিলিয়ে মোট আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি ধাক্কা লাগার আশঙ্কা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে হতাশ বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান, যিনি একসময় আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট অফিসার ছিলেন দীর্ঘ দশ বছর। আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও, শেষ বোর্ড বৈঠকে কার্যত একা পড়ে যান। পাকিস্তান ছাড়া আর কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি—এমনকি শ্রীলঙ্কাও নয়।
সব মিলিয়ে ছবিটা স্পষ্ট। এটা শুধু একটি বিশ্বকাপ খেলবে কি খেলবে না—সেই সিদ্ধান্তের গল্প নয়। তার বদলে বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির গভীর সংকটের ছবি, যেখানে মত প্রকাশ করাই ঝুঁকি। তামিমের মতো অভিজ্ঞ কণ্ঠস্বরও যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে বাকিদের নীরব থাকা প্রায় অবশ্যম্ভাবী।