বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—খেলাধুলোর চেয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা বড়। আসিফ নজরুলের কথায়, ‘খেলতে না পারার ক্ষতির সঙ্গে তুলনা করতে হবে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি।’
.jpeg.webp)
বাংলাদেশ টিম
শেষ আপডেট: 23 January 2026 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত শুধু মাঠের বাইরের কূটনৈতিক বার্তা নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটে তা আনতে পারে ভয়াবহ আর্থিক ধাক্কা। ভারতে আসতে না চাওয়ায় আসন্ন টুর্নামেন্ট (T20 World Cup 2026) থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার পথে মুস্তাফিজুর রহমানরা (Bangladesh Cricket Board)। আর তাতেই প্রায় ২৪০ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত, কোথায় জট?
বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের মাটিতে (India) টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) সরানোর অনুরোধ জানানো হলেও আইসিসি সূচি বদলাতে নারাজ। ফলে বাংলাদেশ অংশ না নিলে টুর্নামেন্টে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডের (Scotland) ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সরকারি অবস্থানও পরিষ্কার। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) জানিয়ে দিয়েছেন, আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়ন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সরকার এই সফরের অনুমতি দেবে না।
আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক কতটা বড়?
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের (PTI) রিপোর্ট অনুযায়ী, টি-২০ বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্ভাব্য ক্ষতি ২৭ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। এই অঙ্ক বোর্ডের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।
এই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে—
সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়
স্পনসরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি
আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণজনিত আর্থিক বণ্টন
অর্থাৎ, বিশ্বকাপ মিস করা মানে শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা।
স্কটল্যান্ড কি প্রস্তুত?
বাংলাদেশকে সময় দেওয়া হয়েছিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে পরের দাবিদার স্কটল্যান্ড (Scotland)। যদিও এখনও পর্যন্ত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের (Cricket Scotland) তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংস্থার কমিউনিকেশন প্রধান চার্লস প্যাটারসন (Charles Paterson) জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বদলালে তবেই তারা বিবৃতি দেবে।
উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল ভারতের মাটিতে—তিনটি কলকাতায় (Kolkata), একটি মুম্বইয়ে (Mumbai)। সাম্প্রতিক সময়ে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেষ কথা: ক্রিকেট বনাম রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—খেলাধুলোর চেয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা বড়। আসিফ নজরুলের কথায়, ‘খেলতে না পারার ক্ষতির সঙ্গে তুলনা করতে হবে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি।’ তবে বাস্তবতাও নির্মম—বিশ্বকাপ বয়কট মানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্থনীতিতে বহুদিনের জন্য গভীর ক্ষত। আপাতত প্রশ্ন একটাই—আইসিসি কি শেষ মুহূর্তে কোনও সমাধানের পথ খুলবে, নাকি বাংলাদেশকে সত্যিই গচ্চা দিতে হবে ২৪০ কোটি?