বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালু থাকবে। যদি শেষ মুহূর্তে কোনও বিকল্প ভেন্যু বা সমাধানসূত্র উঠে আসে, পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
.jpeg.webp)
টিম বাংলাদেশ
শেষ আপডেট: 22 January 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জার্নি শুরু হওয়ার কথা ছিল ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ। কিন্তু তার আগেই কার্যত হিসেব উল্টে দিল বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে টি–২০ বিশ্বকাপে খেলতে রাজি নয় তারা। একাধিক দফা আবেদন, আলোচনা, দরকষাকষির পরেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) কাছ থেকে কোনও ছাড় আদায় করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)। বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশ, কিন্তু ভারতে নয়—এই অবস্থানেই অনড় ঢাকা।
কেন এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ?
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, বাংলাদেশ দল ভারতে পা রাখবে না। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের (Asif Nazrul) সঙ্গে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। তার আগে বুধবার আইসিসি বিশ্বকাপে খেলবে কি না, তা জানানোর জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়।
বিসিবি-র বক্তব্য পরিষ্কার। তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগ্রহী, কিন্তু ম্যাচ ভারতে আয়োজন চলবে না। বোর্ড সূত্রে খবর, নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা বারবার জানানো হয়। কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলাফল—বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো।
আইসিসি বনাম বিসিবি: সংঘাত কোথায়?
এই সিদ্ধান্তের পরেই তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল (Aminul Islam Bulbul)। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। ‘আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাব। বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে কিছু সিদ্ধান্ত একেবারেই হতবাক করার মতো ছিল। মুস্তাফিজুরের বিষয়টা (Mustafizur Rahman) কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ওই ক্ষেত্রে একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিল ভারত!’ সরাসরি অভিযোগ তাঁর।
বুলবুল আরও বলেন, ‘আইসিসি আমাদের ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ মানেনি। বিশ্ব ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। ২০ কোটি মানুষকে তারা কার্যত লক করে রেখেছে। ক্রিকেট অলিম্পিকে ঢুকছে, কিন্তু আমাদের মতো দেশ যদি সেখানে যেতে না পারে, সেটা আইসিসির ব্যর্থতা।’
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—আদতে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টে প্রভাব ও সম্ভাব্য বদলি দল
বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে বিশ্বকাপে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ড (Scotland) সেই জায়গা নিতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, বিকল্প দল প্রস্তুত রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। টি–২০ ফরম্যাটে তারা বরাবরই ‘ডার্ক হর্স’। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশ না থাকার অর্থ: বিশ্বকাপের রং কিছুটা হলেও ফিকে হবে। মত ক্রিকেটমহলের।
তবে বিসিবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালু থাকবে। যদি শেষ মুহূর্তে কোনও বিকল্প ভেন্যু বা সমাধানসূত্র উঠে আসে, পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। কিন্তু আপাতত বার্তাটা স্পষ্ট—ভারতের মাটিতে টি–২০ বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ।