আপাতত পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যে আইসিসির সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রায় শেষ। বুধবারের বোর্ড বৈঠকেই চূড়ান্ত রায় হওয়ার কথা—সূচি বহাল থাকবে, নাকি ফের একবার ‘হাইব্রিড মডেলে’র আশ্রয় নিতে হবে।

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 21 January 2026 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপের আগে কূটনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা আশঙ্কা আর বোর্ড-রাজনীতির জট—সব মিলিয়ে উত্তাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বাংলাদেশের ভারতে এসে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনীহার পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি আইসিসিকে চিঠি পাঠাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)। বুধবার আইসিসি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগের রাতে এই অবস্থান জানানো হয়েছে বলে খবর।
সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে আসল প্রশ্ন—টি-২০ বিশ্বকাপ কি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে হবে, নাকি ‘হাইব্রিড মডেলে’র পথে হাঁটতে বাধ্য হবে আইসিসি?
বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন পাকিস্তানের
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে, যে তারা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) যুক্তি—বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয়। চিঠিতে পিসিবি শুধু আইসিসিকে নয়, আইসিসি বোর্ডের সব সদস্যকেও কপি পাঠিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এহেন অবস্থানের নেপথ্যে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি অনুরোধ। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনও প্রকাশ্যে কোনও বিবৃতি দেয়নি।
টি-২০ বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচই হওয়ার কথা ভারতে। প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায়, শেষেরটি মুম্বইয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ চাইছে, এই খেলাগুলি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায়।
আইসিসি বনাম বাংলাদেশ: অনড় দুই পক্ষ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই ইস্যুতে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ঢাকায় বসেছে আইসিসি প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আলোচনাও। কিন্তু কোনও পক্ষই অবস্থান বদলায়নি। আইসিসির (International Cricket Council) বক্তব্য স্পষ্ট—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই টুর্নামেন্ট হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলার প্রশ্নই ওঠে না।
এই টানাপড়েনের মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করল। উল্লেখযোগ্যভাবে, পাকিস্তান নিজেরাও ২০২৭ পর্যন্ত ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে ‘হাইব্রিড মডেলে’। পাকিস্তানের সব ম্যাচই হবে শ্রীলঙ্কায়, ভারত সফর নয়—এই শর্তেই চুক্তি কার্যকর রয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত কোথায়?
আইপিএল ঘিরে যাবতীয় সমস্যার শুরু। বিসিসিআইয়ের (Board of Control for Cricket in India) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দেয়। যুক্তি হিসেবে বিসিসিআই ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’-র কথা উল্লেখ করেছিল। এর পরপরই আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশের সরকার। সেই সঙ্গে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানায়—ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না তারা।
আপাতত পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যে আইসিসির সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রায় শেষ। বুধবারের বোর্ড বৈঠকেই চূড়ান্ত রায় হওয়ার কথা—সূচি বহাল থাকবে, নাকি ফের একবার ‘হাইব্রিড মডেলে’র আশ্রয় নিতে হবে। একদিকে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ, অন্যদিকে সদস্য দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান—দ্বন্দ্বের মধ্যে টালমাটাল আইসিসি। পাকিস্তানের সমর্থনে বাংলাদেশের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।