শেষ পর্যন্ত বোঝা গেল, চাপের রাজনীতির তেমন শক্তি নেই। নইলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা কাটার সুযোগ ছিল না। এবার অবশ্য হিসেব পালটে গিয়েছে। বল মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা।

রাজীব শুক্লার সঙ্গে মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 10 February 2026 14:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাগুজে ‘বয়কট’ আর ‘হুঙ্কার’ নামক ধাপ্পার অবশেষে ইতি। সুড়সুড় করে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। আইসিসিকে কূটনৈতিক চাপে রাখার সমস্ত ফিকির ভেস্তে গিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে এবার মাঠে দেখা যাবে সলমন আঘাদের।
আইসিসির মধ্যস্থতায় ইউ-টার্ন
দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে অবশেষে অবস্থান বদলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে আপত্তি ছিল ইসলামাবাদের। কিন্তু সোমবার রাতে আকস্মিক ইউ-টার্ন। আইসিসির (ICC) মধ্যস্থতার পর পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দেয়—১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) ভারত-পাক ম্যাচে মাঠে নামবে দু’দল।
নাটকের সূত্রপাত হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রশ্নে। বিসিবি-র (Bangladesh Cricket Board) উপর কোনও শাস্তি চাপানো হবে না এবং ২০৩১-এর আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের ছাড়পত্র দেওয়ার আশ্বাস মিলতেই বরফ গলতে শুরু করে। লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে (Gaddafi Stadium) আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ও বিসিবি কর্তা আমিনুল ইসলামের (Aminul Islam) বৈঠকের পরই কার্যত সমঝোতা চূড়ান্ত।
বিসিসিআই কী বলল?
এতদিন পর্যন্ত ‘আইসিসি যা বলবে, সেটাই মানব’—এই অবস্থানে ছিল বিসিসিআই। মঙ্গলবার বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা (Rajeev Shukla) সাংবাদিকদের সামনে আইসিসির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আইসিসির চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধিরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান বেরিয়েছে। ক্রিকেটের স্বার্থই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।’
শুক্লার বক্তব্য, সিদ্ধান্ত শুধু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নয়, গোটা টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট করেছে। বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো আইসিসির বড় সাফল্য। সবাই মিলে ক্রিকেটকে এগিয়ে রাখাই আসল।’তবে শুধু পাক-ম্যাচ নয়, গোটা বিশ্বকাপ নিয়েই আশাবাদী বিসিসিআই। শুক্লার কথায়, ‘১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ায় এখন আর কোনও অনিশ্চয়তা নেই। এই টি-২০ বিশ্বকাপ একটা সাফল্যের গল্প লিখবে!’ পাশাপাশি জানান, বাংলাদেশের মনোভাব ইতিবাচক। আইসিসির ভূমিকায় তাঁরাও সন্তুষ্ট।
পটভূমিতে আবর্ত আনে রাজনীতি। বাংলাদেশকে গ্রুপ বদল, নিরাপত্তা অজুহাত, এমনকি মুস্তাফিজুর রহমানের (Mustafizur Rahman) আইপিএল ইস্যু—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে। যদিও শেষ পর্যন্ত বোঝা গেল, চাপের রাজনীতির তেমন শক্তি নেই। নইলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা কাটার সুযোগ ছিল না। এবার অবশ্য হিসেব পালটে গিয়েছে। বল মাঠে গড়ানোর অপেক্ষা।