বয়কট বিতর্ক ভুলে শেষ পর্যন্ত ভারত-ম্যাচ খেলতে নামছে পাকিস্তান। সরকারি নির্দেশে বাবর আজমরা ঠিক সময়েই মাঠে নামবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 10 February 2026 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল নিয়ে এতদিন ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তান সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে তার ইতি পড়ল। সরকারি নির্দেশেই পাক দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত খেলাটি খেলতে নামতে হবে, সোমবার রাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে শেষ হল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের এই ‘দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ম্যাচ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
রবিবার লাহোরে মুখোমুখি বসেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সেখানে মূলত এই নিয়েই আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে কোনও পজিটিভ বার্তা না আসায় সকলে ধরেই নিয়েছিলেন ম্যাচটি হচ্ছে না।
কিন্তু সোমবার রাতে সরকারি বিবৃতিতে পাকিস্তান জানায়, “বহুপাক্ষিক আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে এবং বন্ধুসুলভ কয়েকটি দেশের অনুরোধে পাকিস্তান সরকার নির্দেশ দিচ্ছে যে জাতীয় দল ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে।” আরও বলা হয়, ক্রিকেটের স্পিরিট বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক খেলাটার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত।
ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। সোমবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে বিডিসি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, মাঠে নামার অনুরোধ করেন। “ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ করছি,” বলেন তিনি।
তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, আসলে পাকিস্তানের জন্য এটিই ছিল মুখরক্ষা করার পথ। কারণ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারত ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। তাই আমিনুলের চিঠি পাকিস্তানের অবস্থান বদলের আড়াল তৈরি করল।
এর পরই সামনে আসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার ডিসানায়েকে (Anura Kumara Dissanayake) এবং শরিফের ফোনালাপ। পাকিস্তান সরকারের কথায়, “দুই নেতা সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় অচলাবস্থা কাটানোর অনুরোধ করেন।”
একই সময়ে দুবাই থেকে আইসিসি-র বিবৃতি আসে—বাংলাদেশকে এই ঘটনায় কোনও আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই স্কটল্যান্ড বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপের দলে ঢুকে গেছে। পাশাপাশি ২০২৮–২০৩১-এর মধ্যে একটি বৈশ্বিক আয়োজক দেশের দায়িত্বও দেওয়া হবে তাদের।
সোমবার সন্ধেয় পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) অবশ্য জানাতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান কোনও চাপকে ভয় করে না। এ দিনই তিনি আইসিসি উপ-চেয়ারম্যান ইমরান খাওয়াজার (Imran Khawaja) সঙ্গে বৈঠকে কয়েকটি দাবি তোলেন—ইন্দো-পাক দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পুনরুজ্জীবন, ভারত–বাংলাদেশ–পাকিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ ইত্যাদি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আইসিসি-র আওতায় না পড়ায় আলোচনায় এগোনোর সুযোগ ছিল না। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাবও খারিজ করে দেয় আইসিসি—কারণ ভারত দশ বছরের বেশি সময় কোনও ট্রাই-সিরিজ খেলেইনি।
শেষ পর্যন্ত আইসিসি জানায়, সব সদস্য দেশ প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে বর্তমান টুর্নামেন্ট সফল করতেই তারা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যে বিশ্বকাপে খেলছে না, তার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
এদিকে লাহোরে রবিবার সারাদিন ধরে চলা বৈঠকে খাওয়াজা, নকভি এবং আমিনুল ইসলাম আলোচনার রূপরেখা তৈরি করেন। পাকিস্তানের বয়কট-সিদ্ধান্ত প্রথমে তাদের সরকারি এক্স (X) অ্যাকাউন্টে ঘোষণা হয়েছিল। পরে পাক প্রধানমন্ত্রী সেটিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতীক বলে ব্যাখ্যা দেন। জানা গেছিল, কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) পেসার মুস্তাফিজুর রহমান (Mustafizur Rahman) দল থেকে বাদ পড়ার পর সংখ্যালঘু নির্যাতন-ইস্যু তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে অস্বীকার করেছিল। আইসিসি সেই আবেদন খারিজ করে দিতেই স্কটল্যান্ড ঢোকে বিশ্বকাপে। শেষমেশ বহুপাক্ষিক চাপেই পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পাল্টাল—ভারত ম্যাচ হবে ঠিক সময়েই।