বল এখন পুরোপুরি পাকিস্তানের কোর্টে। বয়কট হলে তার প্রভাব শুধু এই বিশ্বকাপে নয়, ভবিষ্যতের ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কেও বড় ছায়া ফেলতে চলেছে।
.jpeg.webp)
ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 9 February 2026 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কূটনৈতিক চাল ধোপে টিকল না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (Pakistan Cricket Board) তিনখানা দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (International Cricket Council)। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থেকে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট—কোনও বিষয়েই মধ্যস্থতার দায় নিতে নারাজ আইসিসি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই টানাপড়েনের শেষ কোথায়? ভারত-ম্যাচ বয়কটের হুমকি কি সত্যিই অনিবার্য হয়ে উঠতে চলেছে?
পাকিস্তানের দাবি কী ছিল?
রবিবার রাতে আইসিসির কাছে মোট তিনটি মূল দাবি তোলে পিসিবি (Pakistan Cricket Board)। প্রথমত, ভারতকে (India) দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট খেলতে রাজি করাতে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। যুক্তি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) বা আইসিসি ইভেন্টের প্রেক্ষিতে এই বিষয়টি তোলা যেতেই পারে। কিন্তু আইসিসির সাফ জবাব—দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর বিষয়, এতে তাদের কোনও আইনি অধিকার নেই।
দ্বিতীয়ত, ভারত–পাকিস্তান–বাংলাদেশকে (Bangladesh) নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেয় পিসিবি। সেটিও এককথায় নাকচ করেছে আইসিসি। কারণ হিসেবে জানানো হয়, কোনও ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন বা সূচি নির্ধারণ তাদের দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।
তৃতীয় দাবি, ভারতকে চলতি বছরের শেষদিকে বাংলাদেশ সফরে যেতে বাধ্য করা। এখানেও একই উত্তর—দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে আইসিসি সিদ্ধান্ত নিতে গড়রাজির কথা জানিয়েছে।
আইসিসির অবস্থান কতটা কড়া?
এই বৈঠকে আইসিসির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপ নিতে প্রস্তুত নয়। এমনকি বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা শাস্তির বিষয়েও বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার পূর্বোক্ত বক্তব্য—তাদের কোনও রেভিনিউ কাটা হবে না।
এই ডামাডোলের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল (Aminul Islam Bulbul) জানিয়েছেন, বৈঠক এতটাই তড়িঘড়ি ডাকা হয়েছিল, যে অনেক বোর্ড কর্তা খবরই পাননি। মাঝরাতে লাহোরে পৌঁছন তিনি। যদিও বাংলাদেশ আগেই এই বিতর্ক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাকিস্তান কি শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচ খেলবে? মঙ্গলবার কলম্বোয় (Colombo) আমেরিকার (United States) বিরুদ্ধে মাঠে নামছে আঘা-ব্রিগেড। তারপর পাঁচ দিনের বিরতি। সূচি অনুযায়ী, পরের ম্যাচ ভারতের বিরুদ্ধে। পিসিবি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, বাংলাদেশ ইস্যুতে সংহতির কারণে পাকিস্তান ভারত ম্যাচ না খেলতেও পারে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট ঘোষণা হয়নি।
একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন—নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) বিরুদ্ধে জয়ের পরও মিডল অর্ডার চাপে। অন্যদিকে মাঠের বাইরের রাজনীতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট—আইসিসি কোনওভাবেই এই রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে ঢুকতে চায় না। বল এখন পুরোপুরি পাকিস্তানের কোর্টে। বয়কট হলে তার প্রভাব শুধু এই বিশ্বকাপে নয়, ভবিষ্যতের ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কেও বড় ছায়া ফেলতে চলেছে।