এই মুহূর্তে ইঙ্গিত স্পষ্ট—পাকিস্তান পুরোপুরি সংঘাতের পথে হাঁটতে নারাজ৷ আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ দরজা খোলা রাখা

জয় শাহ ও মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 8 February 2026 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি–২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) সূচিতে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কূটনৈতিক লড়াই, রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ৷ এবার সেই খেলা ঘিরে জমে ওঠা বিতর্কে নতুন মোড়। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত লড়াই বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে সেই অবস্থান নরম হয়েছে। আড়ালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (International Cricket Council) কড়া বার্তা—ম্যাচে না নামলে পিসিবির কাঁধে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাপতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে শুরু হয়েছে ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’। বাংলায় বললে, গঠনমূলক আলোচনা। যাতে দু'পক্ষের কাম্য সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে৷ সরাসরি সংঘাত নয়, বরং আলোচনার টেবিলেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর।
‘ফোর্স ম্যাজিউর’ যুক্তি মানেনি আইসিসি
পাকিস্তান বোর্ডের দাবি ছিল, বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা ভারতের (India) বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। পিসিবির তরফে এই সিদ্ধান্তের পিছনে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ধারা দেখানো হয়—যার মোতাবেক সরকারের নির্দেশের কারণে তারা এহেন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য।
কিন্তু এক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান একেবারেই আলাদা। সংস্থার বক্তব্য, আলোচ্য পরিস্থিতি ‘ফোর্স ম্যাজিউরে'র আওতায় পড়ে না। বোর্ডকে জানানো হয়েছে, এমন দাবি করলে তার সপক্ষে যুক্তি, প্রমাণ এবং ক্ষতি কমানোর প্রচেষ্টা দর্শাতে হবে। আইসিসির এক কর্তার কথায়, ‘ব্যাখ্যা বা প্রশ্ন ছাড়াই ফোর্স ম্যাজিউর ডাকা যায় না।’
এই বার্তার পরই পিসিবি কার্যত আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। ভারত–পাক ম্যাচ বাতিল হলে শুধু সম্প্রচারকারী নয়, টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক কাঠামোই ধাক্কা খাবে। এই চিন্তাই পরিস্থিতি অনেকটা বদলে দিয়েছে।
আর্থিক চাপে ইউ-টার্ন?
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে আইসিসির ‘ক্যাশ কাউ’ বলা হয়। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি—সবচেয়ে বেশি আয় এই ম্যাচ ঘিরেই। এহেন লড়াই না হলে ক্ষতির অঙ্ক কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। যে কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট-ও (Sri Lanka Cricket) পিসিবিকে চিঠি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ম্যাচ বাতিল হলে শুধু বোর্ডের আয় কমবে না, আয়োজক দেশের পর্যটন ও অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে (Bandula Dissanayake) স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই ম্যাচ ঘিরে বিপুল পর্যটন আয় হওয়ার কথা ছিল। এখন তা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা।’ পরিবর্তিত পরিসরে পিসিবি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের (Pakistan Government) সঙ্গে আলোচনা করবে, অবস্থান পুনর্বিবেচনা চলবে।
শেষ পর্যন্ত কী হবে?
এই মুহূর্তে ইঙ্গিত স্পষ্ট—পাকিস্তান পুরোপুরি সংঘাতের পথে হাঁটতে নারাজ৷ আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ দরজা খোলা রাখা। ‘বয়কটে'র ধুয়ো থিতিয়ে না গেলেও বাস্তবে পিসিবির ইউ-টার্নের সম্ভাবনা প্রবল। শেষ পর্যন্ত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠে নামবে পাকিস্তান—এমনটাই মনে করছে ক্রিকেটমহল। এখন দেখার, আলোচনার টেবিল থেকে বিকল্প কোন সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে।