কেউ টিভি দেখবে না, কেউ খবরের কাগজ পড়বে না। যখন মাঠে যাবে, তখন কানে হোডফোন গুঁজে রাখবে, যাতে বাইরের আওয়াজ না শুনতে পাও। শুধু ফোকাস করবে মাঠে।

২০১১ বিশ্বকাপ জেতার পর টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 12 August 2025 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৫-এর (ICC Women's Cricket World Cup 2025) ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। দু’মাসও আর বাকি নেই। এবারের আয়োজক ভারত। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। দু’বার ফাইনালে উঠলেও ভারত এখনও পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবার সেই খরা কাটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হরমনপ্রীত কৌর ব্রিগেড।
গতকাল (সোমবার) মুম্বইয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহিলা বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh) ও মিতালি রাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্লু টাইগ্রেসেস-এর দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা স্মৃতি মান্ধানা ও জেমাইমা রড্রিগেজ।
অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং কথা বলেন হরমনপ্রীত-স্মৃতিদের সঙ্গে। তাঁদের উৎসাহিত করেন ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপের একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে। সেবার মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতে শেষ হাসি হেসেছিল টিম ইন্ডিয়া।
২০১১ বিশ্বকাপে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায় ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ টাই রাখে। এরপরই ভারতীয় সমর্থকরা তীব্র সমালোচনা শুরু করে দেন। সেই সময় কোচ গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten) ও স্বয়ং শচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) ভারতীয় ক্রিকেটারদের পরামর্শ দেন, বাইরের জগতে কান দিও না, মনোনিবেশ কর পরের ম্যাচগুলিতে।
সেই ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে যুবরাজ সোমবারের অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি সেই সময়কার একটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই। ২০১১ পর্যন্ত কোনও দেশই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ভারত শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৮ বছর (১৯৮৩) আগে। আমার মনে আছে ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ টাই হয়েছিল ও আমরা হেরে যাই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে অবশ্য আমরা জেতার অবস্থাতেই ছিলাম। এরপর শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।”
ভারতের দু’টি বিশ্বকাপ (২০০৭ টি-টোয়েন্টি ও ২০১১ ওডিআই) জয়ের নায়ক যুবরাজ সিং এরপর বলেন, “শচিন তেন্ডুলকর ও কোচ গ্যারি কার্স্টেন সেই সময় আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বলেন, আমাদের একটা জিনিসই করতে হবে, আর সেটা হল বিশ্বকাপ জেতা। কেউ টিভি দেখবে না, কেউ খবরের কাগজ পড়বে না। যখন মাঠে যাবে, তখন কানে হোডফোন গুঁজে রাখবে, যাতে বাইরের আওয়াজ না শুনতে পাও। শুধু ফোকাস করবে মাঠে। ঘরে ফিরে কান থেকে হেডফোন খুলে ফেলবে। হইহট্টগোল কমাও আর বিশ্বকাপ জেতার জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই কর।”