ইতালির অভিষেক নিখুঁত না হলেও একেবারে শূন্য বলা চলে না। প্রথম ছক্কা, প্রথম ফিফটি, প্রথম বড় জুটি—এই ‘প্রথম’-গুলো ভবিষ্যতের পুঁজি।

ইতালি বনাম স্কটল্যান্ড
শেষ আপডেট: 9 February 2026 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতালির (Italy) টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup) অভিষেকটা ঐতিহাসিক নয়, শেষ হল হতাশায়। প্রথমবার বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে দেশের জার্সি গায়ে নামা, জাতীয় সংগীতে গলা মেলানো, তাও কিনা ইডেন গার্ডেন্সের (Eden Gardens) মতো মঞ্চে—এমন দিনে আবেগের পারদ স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু বিশ্বকাপ তো আবেগে চলে না। চলে নিখুঁত, হিসেবি অঙ্কে। আর সেখানেই পিছিয়ে পড়ল ইতালি। টেক্কা দিল স্কটল্যান্ড (Scotland)। বোঝালো, বড় মঞ্চে ‘প্রথমবার’ নামায় কোনও সহানুভূতির জায়গা নেই! যার ফল—৭৩ রানে নির্মন পরাজয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কড়া পাঠ!
টস জিতেও নিয়ন্ত্রণ হারাল ইতালি
ইতালির অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন (Wayne Madsen) টস জিতে ইতিহাসে নাম লেখালেন ঠিকই। কিন্তু সেটাই ছিল আজুরিদের একমাত্র ও শেষ হাসি। স্কটল্যান্ড শুরু থেকেই ম্যাচটা নিজের মুঠোয় রাখে। ব্যাট হাতে শুধু রান করেনি, চাপ তৈরি করেছে—প্রতিটি ওভারে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ম্যাডসেনের আঘাতে। ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধে লাগে মারাত্মক চোট। যার জেরে পুরো টুর্নামেন্ট নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিষেক ম্যাচে অধিনায়কের এমন পরিস্থিতি—ইতালির জন্য বড় আঘাত।
২০০ পেরোল স্কটল্যান্ড, ভয় ধরাল শেষ ওভারে
এই বিশ্বকাপে প্রথম দুশোর বেশি স্কোর বানাল স্কটল্যান্ড। জর্জ মানসি (George Munsey) ৮৫ রানের আগ্রাসী ইনিংসে ইডেনকে নিজের বাড়ির উঠোন বানিয়ে তোলেন। মিডল ওভারে গ্রান্ট স্টুয়ার্ট (Grant Stewart) আউট করে প্রতিপক্ষকে একটু স্বস্তি এনে দেন—বিশ্বকাপে ইতালির প্রথম ‘বড়’ উইকেট। কিন্তু সেই স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী। অন্তিম লগ্নে মাইকেল লিস্ক (Michael Leask) ম্যাচের গতি বদলে দেন। শেষ ওভারে ২২ রান। স্কোরবোর্ডে ২০৭। তখনই ম্যাচ প্রায় শেষ।
রান তাড়া করতেই ধাক্কা
২০৮ চেজ করতে নেমে প্রথম বলে জাস্টিন মোসকা (Justin Mosca) আউট। বিশ্বকাপ অভিষেকের রূঢ়তা এখানেই। তবে উইল স্মাটস (Will Smuts) খানিক সাহস দেখান। ইতালির প্রথম বিশ্বকাপ ছক্কা তাঁর ব্যাট থেকেই। এক ওভারে ৬,৪,৬—ইডেন গ্যালারিতে খানিকটা সাড়া পড়ে। কিন্তু সেই আগুন দ্রুত নিভে যায়। স্কটিশ বোলাররা টাইট লাইন-লেন্থে খেলা আটকে রাখে। ইতালি লড়াই করলেও ম্যাচের রাশ আর ফেরাতে ব্যর্থ।
লিস্কের শেষ আঘাত
ম্যাচের একমাত্র ইতিবাচক অধ্যায়—মানেন্তি ভাইদের পারফরম্যান্স। হ্যারি মানেন্তি (Harry Manenti) ও বেন মানেন্তি (Ben Manenti) চতুর্থ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল, লড়াই টানটান হতে পারে। ইতিহাস গড়েন বেন মানেন্তি—ইতালির প্রথম বিশ্বকাপ অর্ধশতরান। ২৯ বলে ফিফটি। কিন্তু তখনই ফের আঘাত হানেন লিস্ক। বল হাতে ৪ উইকেট, মাত্র ১৭ রানে। ম্যাডসেন ব্যাট করতে না পারায় ইতালি পুরোপুরি দিশাহীন। ইনিংস শেষ ১৩৪ রানে, ১৬.৪ ওভারে।
শিক্ষা পেল ইতালি, বড় বার্তা স্কটল্যান্ডের
ইতালির অভিষেক নিখুঁত না হলেও একেবারে শূন্য বলা চলে না। প্রথম ছক্কা, প্রথম ফিফটি, প্রথম বড় জুটি—এই ‘প্রথম’-গুলো ভবিষ্যতের পুঁজি। তবে স্কটল্যান্ড দেখিয়ে দিল, বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে আবেগ নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। ইডেনে আজুরিরা ইতিহাসে ঢুকল ঠিকই। কিন্তু ম্যাচ শেষ দরকারি ২ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল স্কটল্যান্ড।