২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ভারতের লজ্জার পরাজয়ের পর বিরাট টেস্ট থেকে অবসর নেন। ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি—যেটা অনেকের নজরেই অপূর্ণ।
_0.jpeg.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 29 March 2026 10:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৮ বলে ৬৯ রান, পাঁচটি চার, পাঁচটি ছক্কা… অপরাজিত। ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভারে ‘সহজ’ জয়। আইপিএলের (IPL 2026) প্রথম ম্যাচেই বিরাট কোহলি (Virat Kohli) বুঝিয়ে দিলেন, তিনি নিভে যাননি।
এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে লাল বলের ক্রিকেট থেকে অমন আকস্মিক অবসর নিলেন কেন? প্রশ্নটা আগে ঘনিয়েছে, এবারও উসকে উঠল। উসকে তুললেন অম্বাতি রায়ডু। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ইনিংস দেখে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটারের বক্তব্য (Ambati Rayudu)—বিরাটের এখনও পাঁচ-ছয় বছর শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা বাকি! শুধু তাই নয়, এমন ফর্ম আর ফিটনেস যাঁর, তাঁর অবিলম্বে লাল বলের ময়দানেও ফেরা উচিত।
চর্চায় সেই শট
ম্যাচের সপ্তম ওভারে বিরাট একটি লফটেড স্ট্রেট ড্রাইভ খেলেন। আক্রমণাত্মক, চোখজুড়নো। ধারাভাষ্যকারা একযোগে মেনে নেন, টুর্নামেন্টের সেরা শটগুলোর একটি হতে চলেছে! কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। দশম ওভারে বিরাট ঝলসে ওঠেন আরও একবার—এবার কব্জির মোচড়ে ডিপ স্কোয়ার লেগ ছাড়িয়ে ছক্কা। এত সহজাত, এত অনায়াস, যে ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ বিস্ময় ও আবেগভরা গলায় জানিয়ে দেন, এই শট তাঁর দেখা ক্রিকেট ময়দানের সেরা দৃশ্যগুলোর একটি!
এবার টেস্টেও ফিরুন!
খেলা শেষে ইএসপিএনক্রিকইনফোর পোস্ট-ম্যাচ অনুষ্ঠানে হাজির হন রায়ডু। সেখানে বিরাটের ইনিংসের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সরাসরি বলে দেন, ‘ও এতটুকু শেষ হয়ে যায়নি। এখনও পাঁচ-ছয় বছর সর্বোচ্চ স্তরের ক্রিকেট খেলতে পারে। আমি আর সঞ্জয় বাঙ্গর একটু আগেই কথা বলছিলাম—বিরাটের লাল বলের ক্রিকেটেও ফেরা উচিত!’ কথা শেষে তাৎপর্যপূর্ণভাবে জুড়ে দেন, ‘আশা করি অধিনায়ক হিসেবেই ফিরবেন!’
বক্তব্য যে আলটপকা নয়, তার সমর্থনে যুক্তি সাজাতে গিয়ে অম্বাতির মন্তব্য, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাটের মতো লাল বলের অধিনায়ক আমি আর দেখিনি। এই মুহূর্তে যেভাবে ব্যাট করছে, টেস্টে ওর অনুপস্থিতি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি!’
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ভারতের লজ্জার পরাজয়ের পর বিরাট টেস্ট থেকে অবসর নেন। ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি—যেটা অনেকের নজরেই অপূর্ণ। তাই সাদা বলের ক্রিকেটে ভাল ইনিংস খেললেই প্রত্যাবর্তনের ধুয়ো জেগে ওঠে। গতরাতেও এর অন্যথা হল না।
আরসিবির দুরন্ত শুরু
বিরাটের ইনিংস ছাপিয়ে দলের পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। ফিল সল্ট ব্যর্থ হলেও চোখধাঁধানো ব্যাটিং দেবদত্ত পাড়িক্কলের। কোহলি প্রথমে সূত্রধর, পরে খাপ খুললেন। ইনিংস সাজালেন ঠান্ডা মেজাজে, তারপর শেষ পর্যন্ত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন—এবার পরপর দুটো শিরোপা জেতার চ্যালেঞ্জ। এই কীর্তি আগে শুধু চেন্নাই (২০১০-১১) ও মুম্বই (২০১৯-২০) হাসিল করেছে।
উল্লেখ্য, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SunRisers Hyderabad) ব্যাট করে ২০১ রান তুলেছিল। বড় স্কোর, নিঃসন্দেহে। কিন্তু বিরাটের ব্যাটে ভর করে সেই পাহাড় মাত্র ১৬ ওভারে ডিঙিয়ে ফেলে আরসিবি।