দিনের শেষে স্পষ্ট—আরসিবি শুধু ম্যাচ জেতেনি। হায়দরাবাদের ট্রেডমার্ক গেলপ্ল্যান কপি করে তাদের ঘায়েল করেছে।
_0.jpeg.webp)
নায়ক সেই বিরাট
শেষ আপডেট: 29 March 2026 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টার্গেট দুশোর বেশি। প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদ (SRH)। যারা গতবারের হতাশা ঝেরে ফেলতে মরিয়া। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ঈশান কিষাণ রান পেয়েছেন। স্কোরবোর্ডও কীভাবে প্রারম্ভিক দুর্দশা ভুলে ব্যাটাররা বড় লক্ষ্য দাঁড় করেছেন, তার সাক্ষী!
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাজটা তাই মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু যখন দলে রয়েছেন ‘চেজমাস্টার’ বিরাট কোহলি, তখন যে কোনও টার্গেটই যে নাগালে, আরও একবার সাক্ষী থাকল চিন্নাস্বামীর দর্শক! রান তাড়া করার ঝাঁজ দেখে অনেকেই ফল কী হতে চলেছে, তার আন্দাজ পেয়েছিলেন। কিন্তু যে কায়দায়, যেভাবে হাসতে হাসতে গতরাতে ম্যাচটা জিতে নিল আরসিবি (RCB), সেটা শুধু জয় নয়—একটা কৌশলগত বার্তাও বটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শেষে বাড়তি নিরীক্ষা নয়… হায়দরাবাদের অস্ত্রেই তাদের বিঁধল বেঙ্গালুরু।
পাওয়ারপ্লেতে-ই কেল্লাফতে?
ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট শুরুতেই। নতুন বলে আক্রমণে এলেন জ্যাকব ডাফি (Jacob Duffy)। গতি দিয়ে নয়, বুদ্ধি দিয়ে আক্রমণ শানালেন। ‘হার্ড লেংথ’ বোলিং। ব্যাটারদের জায়গা দিলেন না। ফল? অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) আউট। জালে বন্দি দুর্ধর্ষ ট্রাভিস হেড (Travis Head)। একইভাবে পরাস্ত হলেন বিপজ্জনক নীতীশ রেড্ডিও (Nitish Reddy)। স্কোরবোর্ডে মুহূর্তে ২৯/৩। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই হায়দরাবাদের মেরুদণ্ড গেল ভেঙে। যে দল শুরুতে ঝড় তোলে, তারাই জোরালো ধাক্কায় চুপ!
মিডল ওভারে রণকৌশল
হায়দরাবাদ কিন্তু এরপরেও লড়াই ছাড়েনি। ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ৩৮ বলে ৮০ করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এখানেও বাজিমাত আরসিবির। রান আটকানো নয়—উইকেট তুলে চাপ তৈরির ছক বুনে ফেলে। রোমারিও শেফার্ড (Romario Shepherd) ও ডাফি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নেন। যা হায়দরাবাদকে ‘ডমিনেশন মোড’থেকে ‘রিকভারি মোডে’ ঠেলে দেয়! যেখানে তারা মোটেও স্বচ্ছন্দ নয়। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ড ২০০ ছুঁলেও ইনিংসে চেনা দাপট ছিল না।
রানচেজের শুরুতেই আক্রমণ, বদলে গেল ছবি
তাড়া করতে নেমে আরসিবি অপেক্ষা করেনি। শুরু থেকেই আক্রমণ। দেবদত্ত পাড়িক্কল (Devdutt Padikkal) হাঁকান ২৬ বলে ঝোড়ো ৬১। পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় এনে দেন। রানরেট তখন নিয়ন্ত্রণে। চাপ উল্টে হায়দরাবাদের ঘাড়ে। এটাই গড়ে দেয় ফারাক! যে ওষুধ ঈশানরা অন্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেন, সেটাই তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায় আরসিবি। বাকি কাজ যতটুকু, শেষ করেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯। আরও একটা নিখুঁত রান চেজ! যেখানে তাড়াহুড়ো নেই—কিন্তু রাশ পুরোপুরি তাঁর হাতে।
যোগ্য জুড়িদার রজত পাটিদার (Rajat Patidar)। ১২ বলে ৩১ করে গতি ধরে রাখেন। স্পিনারদের সেট হতে দেননি। যার ফলে ২৬ বল বাকি থাকতে খেল খতম!
তাই দিনের শেষে স্পষ্ট—আরসিবি শুধু ম্যাচ জেতেনি। হায়দরাবাদের ট্রেডমার্ক গেলপ্ল্যান কপি করে তাদের ঘায়েল করেছে।