টানা চার ম্যাচে হার, তবুও দলের পারফরম্যান্সে খুশি কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে! লখনউয়ের বিরুদ্ধে ১৮১ রান তুলেও কেন হারল কলকাতা? মুকুল চৌধুরির ইনিংস আর অজিঙ্ক রাহানের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
.jpg.webp)
অজিঙ্ক রাহানে
শেষ আপডেট: 10 April 2026 10:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার ম্যাচ কেটে গেল। জয়ের খাতা এখনও খুলতে পারল না কেকেআর! ঘরে-বাইরে জোর সমালোচনা। কাঠগড়ায় তিনি নিজেও। প্রশ্ন উঠছে পারফরম্যান্স নিয়ে৷ আজ ব্যাটিং ডোবাচ্ছে তো কাল ডেথ ওভার বোলিং৷ একটা ছিদ্র ঢাকতে গিয়ে অন্য ফুটো হাঁ-মুখ করে বেরিয়ে আসছে। এতকিছুরে পরেও, অদ্ভুতভাবে, এতটুকু হতাশ নন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane)। বরং উল্টো—দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ‘গর্বিত’ বলেই জানালেন তিনি। মোদ্দা বক্তব্য: খেলায় হার আছে। পারফরম্যান্সের চাপ আছে। কিন্তু আসল ফারাক গড়ে দিচ্ছে ছোট ছোট ভুল!
‘হার মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু ছেলেদের নিয়ে গর্বিত’
লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) বিরুদ্ধে অন্তিম বলে পরাজয় হজম করাটা সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও তিন উইকেটে হার। ম্যাচ শেষে রাহানে বলেন, ‘মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু যেভাবে আমরা খেলেছি, তাতে ছেলেদের নিয়ে গর্বিত।’ অর্থাৎ, ফলাফল নয়—প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ দলনেতা।
১৮১ রান করেও জেতা গেল না, কোথায় ভুল?
প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর খারাপ স্কোর তোলেনি। ২০ ওভারে ১৮১/৪। ইডেনের আর্দ্র পিচে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং৷ রাহানে করেন ৪১। অঙ্গকৃষ রঘুবংশী (Angkrish Raghuvanshi) ৪৫। শেষে রভম্যান পাওয়েল (Rovman Powell) অপরাজিত ৩৯। রাহানের কথায়, ‘এই পিচে ১৮০ রান তোলা মোটেও সহজ নয়!’ তবু স্কোর ডিফেন্ড করা গেল না কেন? উঠছে প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল চৌধুরির ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়৷ শেষ দুই ওভারে লড়াইয়ের রাশ নাইটদের হাতছাড়া। মুকুল (Mukul Choudhary) ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪। চাপের মধ্যে নির্ভীক ব্যাটিং। রাহানে স্বীকার করেছেন, ‘ওর ইনিংসটাই ম্যাচের অভিমুখ ঘুরিয়েছে।’ শেষ চার ওভারে ৪৩, দুই ওভারে লাগত ৩০ রান—এই পরিস্থিতিতে ব্যাটারদের হারানোর কিছু থাকে না। নাইট অধিনায়কের মতে, ‘ওরা শুধু মারতে নেমেছিল। আর সেটাই কাজে দিয়েছে।’
এখনও ভরসা হারাচ্ছেন না রাহানে
গতরাতে শেষ ওভারের পরিকল্পনাও খোলসা করেছেন অজিঙ্ক রাহানে। লক্ষ্য ছিল আবেশ খানকে (Avesh Khan) স্ট্রাইকে রাখা। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। রাহানের কথায়, ‘শেষ দিকে একটু এদিক-ওদিক হলে এমনটা হয়ে যায়!’ ভেঙে বললে, ম্যাচ হারলেও খুব বড় ব্যবধান নয়—ছোট ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে।
নাইট অধিনায়ক যতই দলকে আড়াল করুন না কেন, কেকেআরের অবস্থা এখন সত্যিই করুণ। চার ম্যাচে জয় নেই। এই পরিস্থিতিতে রাহানের বার্তা—প্যানিক নয়, ধৈর্য রাখা জরুরি। পরের লড়াই চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) বিরুদ্ধে। ঋতুরাজ, সঞ্জুরাও কেকেআরের মতো ধুঁকছেন৷ দুই দলই চাইবে জিতে দু'পয়েন্ট ছিনিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে৷ সেখানে রাহানের উপদেশ কাজে দেয় না, এখন সেটাই দেখার।