ইডেন গার্ডেন্সে শেষ বলের নাটক! লখনউয়ের কাছে হারের পর আম্পায়ারিং নিয়ে বিস্ফোরক কেকেআর। ফিন অ্যালেনের আউট কি আদৌ বৈধ ছিল? রভম্যান পাওয়েলের মন্তব্য ও ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

রভম্যান পাওয়েল
শেষ আপডেট: 10 April 2026 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচ শেষ বল পর্যন্ত গড়াল। উত্তেজনা চরমে। কিন্তু শেষ হাসি হাসল লখনউ। আর এই পরাজয়ের পরই সরব কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। অভিযোগ—আম্পায়ারিং ‘ভুল’ তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিল। ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) দু:স্বপ্নের হার। আর সব ভুলে ক্যাচ-বিতর্কই এখন সবচেয়ে বড় গল্প।
শেষ দুই বলে ম্যাচ ঘুরল, হতাশ কেকেআর
লড়াই প্রায় জিতে গিয়েছিল কেকেআর। শেষ দুই বলে দরকার ৭ রান। সেখানেই ম্যাচ ঘুরে যায়। নায়ক মুকুল চৌধুরি (Mukul Choudhary)। প্রথমে ছক্কা মারেন। অন্তিম বলে এক রান নিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেন লখনউ সুপার জায়ান্টসকে (Lucknow Super Giants)। ১৮২ রানের টার্গেট তাড়া করে এমন জয়ের আসল রসায়ন চাপের মধ্যে নিখুঁত ব্যাটিং। যদিও কেকেআরের মতে, উপসংহারের বীজ এখানে নয়, প্রথম ইনিংসে পোঁতা।
বিতর্কের কেন্দ্রে সেই ক্যাচ
লড়াইয়ের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উঠে আসছে ফিন অ্যালেনের (Finn Allen) উইকেট। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরেন দিগ্বেশ রাঠি (Digvesh Rathi)। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে আউটের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে—ওই সময় দ্বিগেশের পা কি বাউন্ডারি ছুঁয়েছিল? কেকেআর শিবিরের দাবি, বিষয়টা অস্পষ্ট। আরও অ্যাঙ্গেল থেকে দেখা উচিত ছিল তৃতীয় আম্পায়ারের। অথচ তা করা হয়নি।
পাওয়েল বললেন ‘ব্লান্ডার’
ম্যাচের পর সরাসরি মুখ খুলেছেন রভম্যান পাওয়েল (Rovman Powell)। তাঁর সাফ কথা, ‘এটা আম্পায়ারদের ভুল হতে পারে।’ জুড়ে দেন, ‘এত ক্লোজ কল—আরও ভালভাবে দেখা উচিত ছিল।’ তবে একই সঙ্গে পরাজয়ের দায়ও এড়িয়ে যাননি তিনি। পাওয়েলের মতে, ‘আমরা বলব না, শুধু এই সিদ্ধান্তেই ম্যাচ হারলাম।’ অর্থাৎ, হতাশা আছে। কিন্তু পুরো দায় আম্পায়ারের ঘাড়ে চাপানো যাবে না।
ঘরের মাঠে ফের ব্যর্থতা, চাপে রাহানেরা
এই পরাজয় কেকেআরের জন্য বড় ধাক্কা। এখনও পর্যন্ত জয়ের খাতা খুলতে পারেনি নাইট বাহিনী। তিন ম্যাচে হার, একটি খেলা বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছে। ঘরের মাঠে (Eden Gardens) জিততে না পারা আরও হতাশাজনক। কথাটা পাওয়েলও মেনে নিলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘ঘরের মাঠকে দুর্গ বানাতে চাই। কিন্তু পারছি না।’
গতরাতে অনেকেই নাইটদের ব্যাটিং লাইন আপকে পুরোপুরি দোষ দিতে নারাজ। আর্দ্র পিচে ১৮১ রান চ্যালেঞ্জিং টার্গেট। তা সত্ত্বেও জিততে না পারা—এটাই বড় আক্ষেপ। সব মিলিয়ে, কেকেআরের সামনে এখন দুটো লড়াই। একটা মাঠে। আরেকটা বিতর্ক ভুলে নিজেদের ভুল শুধরানোর। শুধু আম্পায়ারিং নয়—মুখে যাই বলুন, রাহানেরা বিলক্ষণ জানেন, শেষ দুই বলেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে।