ম্যাচের শেষবেলায় এক রান না নিয়ে কি ভুল করলেন ডেভিড মিলার? দিল্লির হারের পর প্রোটিয়া তারকাকে কেন ‘খলনায়ক’ বলতে নারাজ সুনীল গাভাসকর? প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের সেই ওভার এবং মিলারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ পড়ুন।
.jpeg.webp)
বিধ্বস্ত ডেভিড মিলার
শেষ আপডেট: 9 April 2026 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচের শেষ দুই বল। দরকার দু’রান। পরিস্থিতি সহজ, আবার ভয়ঙ্করও। ঠিক সেই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত—যা বদলে দিল পুরো গল্পের মোড়! ব্যাট হাতে ক্রিজে ডেভিড মিলার (David Miller)। সু্যোগ থাকলেও এক রান নিলেন না। অন্তিম বল নিজের হাতে রাখলেন। কিন্তু তাতেই পুড়ল কপাল! প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের (Prasidh Krishna) স্লোয়ার বাউন্সার মিস হতেই লাগালেন তড়িঘড়ি দৌড়। আর তাতেই রান আউট নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো কুলদীপ যাদব। চতুর্থ বলে এক রান নিলে যে ম্যাচ অন্তত ড্র হয়ে খেলা সুপার ওভারে গড়াতে পারত, সেখান থেকে ২০ ওভার শেষে লড়াই হেরে মাঠ ছাড়ল দিল্লি। আর সেখানে শুরু বিতর্ক। উঠছে প্রশ্ন—সব দোষ মিলারের? তিনিই আসল খলনায়ক?
ম্যাচের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে দিল্লির দরকার ২ রান। ক্রিজে মিলার। অন্য প্রান্তে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। শেষের আগের বলটা সহজ সিঙ্গেল হতে পারত। কিন্তু মিলার নিলেন না। স্ট্রাইক নিজের হাতে রাখলেন। ভাবলেন—শেষ বলে কাজের কাজটুকু সেরে ফেলবেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বল ব্যাটেই লাগল না। প্রাণপণ ছুটেও রান আউট। আর এখানেই এক রানে ম্যাচ হারল দিল্লি।
প্রোটিয়া ব্যাটারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড়। তবে সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) বিলকুল অন্য সুরে কথা বললেন। তিনি মানছেন—কুলদীপকে স্ট্রাইক দেওয়া যেত। কিন্তু মিলারের অঙ্কে ভুল ছিল না। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের কথায়, ‘ও নিজের উপর ভরসা রেখেছিল। আগের বলগুলো যেভাবে মারছিল, তাতে ভেবেছিল, শেষ বলেই জিতিয়ে দেবে।’অর্থাৎ, সানির মতে, এটা ভুল সিদ্ধান্ত নয়—বরং, আত্মবিশ্বাসের খেসারত।
একই সুর শোনা গেল কেভিন পিটারসেনের (Kevin Pietersen) গলায়। তাঁর মতে, মিলার অন্তত একটা রান পাবেন—এই বিশ্বাস থেকেই স্ট্রাইক নিজের হাতে রেখেছেন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও ম্যাচ টাই করার সুযোগ ছিল। পিটারসেনের কথায়, ‘ওর মাথায় ছিল—এক রান তো পাবই। না হলে বড় শট মারব!’ অর্থাৎ, ঝুঁকি ছিল। কিন্তু সেটা অবিবেচনাপ্রসূত নয়, হিসেব কষে নেওয়া ঝুঁকি।
এখানেই আসল প্রশ্ন। ক্রিকেটে ফলাফলই শেষ কথা বলে। অন্তিম বলে রান হয়নি। তাই সিদ্ধান্ত ভুল বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু যদি সেই বলই বাউন্ডারি পেরত? তাহলে মিলারই হতেন জয়ের নায়ক। যিনি শেষ দুই ওভারে ৩২ রান দরকার থেকে লড়াই হাতের নাগালে নিয়ে চলে আসেন। এই সূক্ষ্ম সীমারেখাতে দাঁড়িয়ে পুরো বিতর্ক।
মিলারের ইনিংস দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ে রেখেছে দিল্লিকে। একটা সিদ্ধান্ত, একটা ঝুঁকি সেই পরিশ্রম ঢেকে দিয়েছে। তাই গাভাসকর-পিটারসেনরা একবাক্যে জানিয়েছেন—দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ তারকাকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।