হাতের নাগালে থাকা ম্যাচ ফসকে গেল ছোট্ট ভুলে! গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর ড্রেসিংরুমে হতাশায় ভেঙে পড়লেন ডেভিড মিলার। এক রান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কি ‘খলনায়ক’ বানিয়ে দিল মিলারকে? দিল্লির সাজঘরের অন্দরমহলের খবর পড়ুন।

বিধ্বস্ত মিলার
শেষ আপডেট: 9 April 2026 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বলে দরকার দু’রান। ঠিক সেই মুহূর্তে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত—যা বদলে দিল ম্যাচ্র মোড়। ব্যাট হাতে ডেভিড মিলার (David Miller) সুযোগ পেয়েও সিঙ্গল নিলেন না। এরপর যা হল, তা এই মুহূর্তে আইপিএলের (IPL 2026) সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। আলোঝলমলে গুজরাত শিবিরের উল্টোদিকে বিষণ্ণ দিল্লি ক্যাম্প। কিন্তু বিষণ্ণতম মুখ? ডেভিড মিলার। ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে নিশ্চুপ হতবীর্য প্রোটিয়া ব্যাটার। দলের আর সবাই যখন এদিক-ওদিক ছড়িয়ে, তখন সাজঘরের এক কোণে চুপচাপ বসে রইলেন। চোখেমুখে বিষাদ। তীব্র যন্ত্রণা।
শেষ ওভারের নাটক, এক মুহূর্তে রংবদল
গুজরাত টাইটান্সের (Gujarat Titans) বিরুদ্ধে ২১১ রান তাড়া করছিল দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals)। শেষ ওভারে লাগত ১৩ রান। মিলার আগুনে ছন্দে। আগের ওভারে মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) ছ’বলে ২৩ রান তুলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। শেষ ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna)। অন্তিম দুই বলে দরকার ২ রান। কিন্তু পেনাল্টিমেট ডেলিভারিতে সহজ সিঙ্গেল নিতে গিয়েও নিলেন না মিলার। ভাবলেন, চূড়ান্ত বলেই জয়সূচক রান ছিনিয়ে আনবেন!
Backing our Tiger, always 🫂💙 pic.twitter.com/pAFouiVmVH
— Delhi Capitals (@DelhiCapitals) April 9, 2026
কিন্তু দিনের শেষে সেটাই হয়ে উঠল দিল্লির পতনের কারণ। ফাইনাল বল মিলারের ব্যাটেই লাগল না। ছুট লাগালেন ঠিকই। কিন্তু তাতে রান আউট নন স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav)। হারতে থাকা ম্যাচ নাগালে এসেও ফের হাতছাড়া।
‘নায়ক’ থেকে মুহূর্তে ‘খলনায়ক’
ম্যাচের শেষে ওভারের আগে পর্যন্ত মিলারই ছিলেন ভরসা। ২০ বলে ৪১*—একাই টেনে এনেছিলেন দলকে। উঁচু ছক্কা, চোখধাঁধানো চার, সুচতুর সিঙ্গল—সব ছিল তাঁর ব্যাটে। কিন্তু শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত জয়ের আশায় জল ঢালল। যেখানে ‘নায়ক’ হওয়ার কথা, সেখানেই তিনি ‘খলনায়ক’!
ড্রেসিংরুমে ভেঙে পড়লেন মিলার
ম্যাচের পর দিল্লি ক্যাপিটালস একটি ভিডিও শেয়ার করে। সেখানে দেখা যায়—ড্রেসিংরুমে একা বসে ডেভিড মিলার। মাথা নিচু। চোখে স্পষ্ট হতাশা। ছোট্ট ক্লিপ বুঝিয়ে দিচ্ছে—এভাবে পরাজয় তিনি সহজে মেনে নিতে পারছেন না। কোচ হেমাঙ্গ বাদানি (Hemang Badani) এগিয়ে এসে তাঁকে সান্ত্বনা দিলেন। টিম ম্যানেজমেন্টও পাশে দাঁড়াল ঠিকই। কিন্তু মিলারের এই আত্মগ্লানি কি সহজে মুছবে?
গতরাতের পরাজয় দিল্লির দুরন্ত মরসুমের প্রথম ধাক্কা। অন্যদিকে গুজরাত পেল প্রথম জয়। যদিও দিনের শেষে ম্যাচের ফলাফল থেকেও বড় হয়ে উঠেছে মিলারের সিদ্ধান্ত। ক্রিকেটে এমন মুহূর্ত নতুন নয়। একটা সিদ্ধান্ত—নায়ক বানায়, খলনায়কও। প্রোটিয়া তারকার চেয়ে এই সহজ সত্যিটা আর কে ভাল বুঝবেন।