ফর্ম নয়, রাজনীতি নয়, খিদে মিটে যাওয়াও নয়—স্রেফ বয়সের জন্যই যে তিনি টেস্টকে বিদায় জানালেন, একটু ঢেকেঢুকে সেকথা বলে দেন কোহলি।

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 9 July 2025 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘টেস্ট ক্রিকেটকে মিস করেন না? আমরা কিন্তু আপনার অভাব অনুভব করছি!’
সঞ্চালক গৌরব কাপুরের প্রশ্নের জবাবটা এড়িয়ে যেতে পারতেন। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে, ইনিয়েবিনিয়ে অনেক কিছু বলেও কোনও কিছু না বলার ভেক ধরতে পারতেন। কিন্তু সে পথে না হেঁটে ইঙ্গিতের আশ্রয় নিলেন বিরাট কোহলি। এক মাস হল, লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। কেন জানিয়েছেন, সেটা আজ পর্যন্ত খোলসা করেননি।
যুবরাজ সিংয়ের হাতেগড়া স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউউইক্যান ফাউন্ডেশন, যারা ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ায় ও ক্যানসার নিয়ে সামগ্রিক সচেতনতা তৈরি করে, তাদের আয়োজিত গ্র্যান্ড ডিনারে তারকার মেলায় মধ্যমণি ছিলেন বিরাটই। প্রথমে স্টেজে আসতে চাননি। জানতেন ‘অপ্রিয়’ বা ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। তবু অনেক অনেক জোরাজুরির পর যখন এলেন তখন সেই অবসর নিয়ে সওয়াল উঠতেই বলে দিলেন, ‘দু’দিন আগে দাড়িতে রং করেছি। চারদিন অন্তর যখন দাড়ি কালার করাতে হচ্ছে, এর অর্থ, তোমার সরে দাঁড়ানোর সময় এসে গিয়েছে!’
অর্থাৎ কিনা, ফর্ম নয়, রাজনীতি নয়, খিদে মিটে যাওয়াও নয়—স্রেফ বয়সের জন্যই যে তিনি টেস্টকে বিদায় জানালেন, একটু ঢেকেঢুকে সেকথা বলে দেন কোহলি। পালটা প্রশ্ন উঠতেই পারত: তাহলে ওয়ান ডে খেলে যাচ্ছেন কেন? সেখানেও তো ফিটনেসের তুঙ্গে থাকা জরুরি। বয়স ফ্যাক্টর হলে তো একদিনের ক্রিকেটকেও বিদায় জানানো উচিত ছিল! যদিও গৌরব কাপুর কিংবা উপস্থিত তারকাদের কেউই বিরাটকে এই প্রশ্ন করেননি।
যুবরাজ সিংয়ের আমন্ত্রণে গতকাল পালস হোটেলে আয়োজিত গালা ডিনারে হাজির ছিলেন শচীন তেন্ডুলকর থেকে কেভিন পিটারসেন। আশিস নেহেরা থেকে ব্রায়ান লারা। যদিও সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে বিরাট। যিনি উপস্থিত ক্রিকেটারদের কাউকে দেখে বড় হয়েছেন, কারও সঙ্গে খেলেছেন, কারও বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
এমনই একজন অনুষ্ঠানের আয়োজক যুবরাজ সিং। একইসঙ্গে রোল মডেল এবং সতীর্থ। তাঁকে নিয়ে বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোহলি। ‘মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাদের সম্পর্ক বেশ মজবুত। যুবরাজকে প্রথম দেখি ব্যাঙ্গালোরের নর্থ জোন টুর্নামেন্টে। তখন সবে জাতীয় দলের হয়ে খেলা শুরু করেছি। উনি, ভাজ্জু পা (হরভজন সিং) এবং জাহির খান আমায় বেড়ে উঠতে অনেক সাহায্য করেছিলেন। ড্রেসিং রুমে ধাতস্থ হতে পাশে দাঁড়ান। শীর্ষে উঠতে গেলে কোন ধরনের লাইফস্টাইল মেনে চলা জরুরি, সেটা তখনই বুঝিয়ে দেন। এই ধরনের সম্পর্ক আমি সারাজীবন মনে রাখব!’ বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে।
ক্যানসার জিতে ফিরে এসেছেন যুবি। মাঠে বোলারদের এবং মাঠের বাইরে মারণরোগের ছোবল শাসন করে দাপটের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন। যা নিয়ে গর্বিত বিরাটও। বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে তাঁকে খেলতে দেখা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এরপর আমরা যেটা জানতে পেরেছিলাম, তা জোরদার ধাক্কা দিয়েছিল। এত কাছাকাছি থেকেও আমরা কোনও আন্দাজই পাইনি। এরপর আমি যখন দলের নেতৃত্বে, তখন যুবরাজ কামব্যাক করেন এবং ক্যানসার জিতে ফিরে আসেন। যা বুঝিয়ে দেয় উনি কত বড় মাপের চ্যাম্পিয়ন!’