প্রশ্ন উঠছে—এশিয়া কাপে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছিল, তখন এহেন কণ্ঠস্বর শোনা গেল না কেন? কেন তখন ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম’ মনে পড়েনি?

সূর্য ও সলমন
শেষ আপডেট: 10 February 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক তর্জন, অনেক গর্জন, অনেক হুঙ্কার, অনেক নাটক। শেষমেশ পাকিস্তানের বয়কট-হুঁশিয়ারির নির্যাস—মাঠে নামতে বাধ্য হওয়া! ভারত–পাক ম্যাচ ঘিরে যে নাটক গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল, তার ইতি টেনেছে পিসিবি-ই। আর সেই ইউ-টার্নের পরই সুর বদল। এবার বৈরিতা ভুলে ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম’, ‘স্পোর্টসম্যানশিপ’, ‘হ্যান্ডশেকে’র কথা বলছেন মহম্মদ হাফিজ (Mohammad Hafeez)।
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ ঘিরে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়কের বার্তা পরিষ্কার—এশিয়া কাপের মতো উত্তেজনাপূর্ণ, বিষাক্ত পরিবেশ আর দেখতে চান না তিনি। মাঠে জিতুক খেলা, রাজনীতি নয়।
এশিয়া কাপের স্মৃতি টানছেন হাফিজ
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আয়োজিত এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তান তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচ যতটা না ক্রিকেট, তার থেকেও বেশি চড়েছিল বিবৃতি, অভিযোগ আর প্রতীকী প্রতিবাদের আগুন। ভারতীয় দল ম্যাচের আগে ও পরে হ্যান্ডশেক করেনি। পহেলগাম জঙ্গি হামলায় (Pahalgam terror attack) সেনা ও শহিদদের প্রতি সংহতি জানাতে এই অবস্থান—এমনটাই ছিল ভারতের ব্যাখ্যা।
ঘটনার রেশ গিয়ে পড়ে পুরস্কার বিতরণীতেও। বিজয়ী টিম ইন্ডিয়া ট্রফি তুলতে অস্বীকার করে, কারণ মঞ্চে ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও এসিসি প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। এর জেরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। শাস্তির কোপে পড়েন একাধিক খেলোয়াড়ের।
এই প্রেক্ষাপটে হাফিজের মন্তব্য—‘ওভাবে যদি ম্যাচ হয়, তাহলে আমি খেলাই দেখতে চাই না!’ বক্তব্যে স্পষ্ট, ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, কিন্তু শত্রুতা নয়।
বয়কট থেকে পিছু হটা, চাপে পাকিস্তান
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেয় পাকিস্তান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আইসিসি (ICC), পিসিবি (Pakistan Cricket Board) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত বদলায় ইসলামাবাদ। এমনিতেই ভারত–পাক ম্যাচ মানে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ। সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসর, বিজ্ঞাপন—সবকিছুই একটি ম্যাচের উপর দাঁড়িয়ে। সেই লড়াই না হলে আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক ভয়াবহ। যে কারণে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার পিছু হটে। ১৫ ফেব্রুয়ারি সূচি মেনে ম্যাচ—এটাই চূড়ান্ত। যদিও এমন ইউ-টার্নের পরই হাফিজের ‘বন্ধুত্বের’ ডাক অনেকের চোখে দ্বিচারিতা বলে মনে হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রাক্তন ব্যাটার অবশ্য বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁর বক্তব্যে অনড়। তিনি চান ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়মিত হোক। রাজনীতি মাঠের বাইরে থাকুক। হাফিজের কথায়, ‘এই ম্যাচ গোটা দুনিয়াকে অনুপ্রাণিত করে। ক্রিকেটকে রাজনীতির বলি হওয়া উচিত নয়।’ যা শুনতে ভালো। কিন্তু এই সূত্রে প্রশ্ন উঠছে—এশিয়া কাপে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছিল, তখন এহেন কণ্ঠস্বর শোনা গেল না কেন? কেন তখন ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম’ মনে পড়েনি?
১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ তাই শুধু একটি গ্রুপ লিগের লড়াই নয়, দু’দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিরও পরীক্ষাও বটে। সত্যিই কি মাঠে নামবে ক্রিকেট? নাকি আবারও প্রতীকী প্রতিবাদ, বার্তা আর পাল্টা বিবৃতির খেলা চলবে? পাকিস্তান ক্রিকেট ও প্রশাসন কি নিরুপদ্রব খেলার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে? নাকি এই ‘স্পোর্টসম্যানশিপে’র ডাকও পিসিবির কাগুজে হুঙ্কারের মতো শেষ পর্যন্ত কাগজেই বন্দি রয়ে যাবে? জবাব মিলবে আসছে রবিবার।