বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবসরের চেয়েও অপ্রত্যাশিত ছিল টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ২০২২ সাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ হেরে যায় (১-২) ভারত। আর তারপরই আচমকা স্বেচ্ছায় দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন বিরাট কোহলি।

বিরাট কোহলি ও রবি শাস্ত্রী
শেষ আপডেট: 12 June 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর আকস্মিক অবসর বিস্ময় ও জল্পনার পাশপাশি তুলে ধরে হাজারো প্রশ্ন। টেস্ট যে ক্রিকেটের তিন ফর্ম্যাটের মধ্যে তাঁর প্রিয়তম—কোনওদিন আড়াল করার চেষ্টা করেননি বিরাট কোহলি (Virat Kohli)।
অথচ আইপিএলের (IPL 2025) মধ্যে, ইংল্যান্ড সফর (England Series) শুরু হতে চলেছে যখন, তার কয়েক দিন আগে আচমকাই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানান বিরাট (Virat Kohli Retirement)। পরে ছেলেবেলার কোচ যখন ফাঁস করেন, কোহলি ইংল্যান্ডের জন্য দিনকয়েক আগেই বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন রহস্য আরও জোরালো হয়।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবসরের চেয়েও অপ্রত্যাশিত ছিল টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ২০২২ সাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ হেরে যায় (১-২) ভারত। আর তারপরই আচমকা স্বেচ্ছায় দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন বিরাট কোহলি—রেকর্ডের বিচারে যিনি ভারতীয় দলের অধিনায়কদের মধ্যে অন্যতম সেরা।
কেন অধিনায়কত্ব দুম করে ছেড়ে দিলেন বিরাট—সেই রহস্য আজও স্পষ্ট নয়। ঠিক যেভাবে জল্পনা ঘনীভূত হয়েছে তাঁর অতর্কিত অবসর নিয়ে। কেন টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন? এই নিয়ে অনেক গুঞ্জন থাকলেও, অনেকে মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া বিধ্বস্ত হওয়ার পর বোর্ডের কাছে অধিনায়ক হওয়ার দরবার করেন কোহলি। সাময়িক সময়ের জন্য হলেও দঅসুবিধা ছিল না। কিন্তু ‘স্টপ-গ্যাপ অধিনায়কত্বে’র প্রস্তাবও নাকি পত্রপাঠ খারিজ করেন নির্বাচকরা। তাতেই ব্যথিত, বিষণ্ণ বিরাট টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এই তত্ত্ব এতদিন জল্পনা থাকলেও অনুমানে সিলমোহর দিলেন রবি শাস্ত্রী। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার, দলের কোচও ছিলেন একসময়। বিরাটকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পেশাদার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে দুজনের সম্পর্ক বন্ধুত্বে গড়িয়েছে।
শাস্ত্রীর মতে, অজিত আগারকর পরিচালিত নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে সীমিত সময়ের অধিনায়ক হওয়ার আর্জি পেশ করেছিলেন কোহলি। কিন্তু সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। একধাপ এগিয়ে তিনি জুড়ে দেন, ‘যদি সবকিছু আমার হাতে থাকত, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পরেই কোহলিকে অধিনায়ক করে দিতাম। ওর অবসর সত্যি দুঃখের। কারণ বিরাট একজন উঁচু মানের খেলোয়াড়। মহান ক্রিকেটার। পরিসংখ্যান সবকিছু জানায় না— আসলে সবকিছুই ব্যক্তিত্বের বিষয়। কোহলি যেভাবে নিজেকে পেশ করেছে, বিশেষত, বাইরের ময়দানে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছে—সত্যি অবিশ্বাস্য! আমি খুশি যে এক সময় আমিও এর অংশীদার ছিলাম।‘
তাহলে এভাবে চলে যেতে হল কেন? রবির মতে, এই অবসর সত্যি কষ্টের। তবে বিষয়টা আরও ভালভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যেত।