আপাতত দলের অবস্থা শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত। লম্বা জার্নি, সময়ের ফারাক, নিদ্রাহীন রাত—সব মিলিয়ে ক্লান্ত টিম ইন্ডিয়া এখন চাইছে একদিনের বিশ্রাম।

শুভমান ও বিরাট
শেষ আপডেট: 16 October 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটানা যাত্রা। তার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা। অবশেষে ভোর চারটে নাগাদ পার্থে (Perth) পা রাখল টিম ইন্ডিয়া (Team India)। অনেক প্রতীক্ষার পর, নিদ্রাহীন চোখে ক্লান্ত দলকে হোটেলে ঢুকতে দেখা গেল। না ছিল প্রচার, না কোনও ছবি তোলার হুল্লোড়!
শুভমান গিলের (Shubman Gill) নেতৃত্বে ভারতীয় ওয়ানডে স্কোয়াড গতকাল দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছে যায়। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী ফ্লাইট ওড়েনি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পর যাত্রা শুরু। ফলে সিঙ্গাপুরে ট্রানজিট ফ্লাইটও যায় পিছিয়ে। বারবার দেরি হতে থাকায় ভারতীয় দলের গন্তব্যে পৌঁছতে রাত কাবার! শেষমেশ আজ, বৃহস্পতিবার, কাকভোরে পার্থে অবতরণ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার পরও সহজ হল না কিছু। একে স্থানীয় সময় রাত প্রায় তিনটে। তায় বিমানবন্দরে কঠোর নিরাপত্তা। যে কারণে অনুরাগীদের বড় অংশ দাঁড়িয়ে থাকলেন বাইরে—কিন্তু দেখা দিলেন না কোনও প্রিয় তারকাই। বিরাট কোহলি (Virat Kohli), রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), শুভমান গিল ও কেএল রাহুল (KL Rahul)—সবাই নিশ্চুপে হোটেলে ঢুকে পড়লেন, সরাসরি ঘরে। দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি চোখেমুখে স্পষ্ট। ভারতীয় সাংবাদিক বিমল কুমার (Vimal Kumar) জানিয়েছেন, পার্থ বিমানবন্দরে আগে থেকেই প্রচুর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকায় আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রিত ছিল। হোটেলের সামনে মাঝরাতে জড়ো হন কিছু অনুরাগী। কিন্তু তখন দলের কেউই দেখা দেননি।
১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ভারত–অস্ট্রেলিয়া (India vs Australia ODI Series 2025) সিরিজ—তিনটি ওয়ানডে, তার পর পাঁচটি টি–২০। ওয়ানডে হবে পার্থ, অ্যাডিলেড (Adelaide) ও সিডনিতে (Sydney)। এই সফর এখন পুরোপুরি ফোকাসে—বিশেষ করে রোহিত ও বিরাটের (Rohit–Kohli) জন্য। যাঁরা দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছেন নীল জার্সিতে।
গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) আগেই বলেছিলেন, ‘আমি আশা করছি, রোহিত আর বিরাট দু’জনেরই দুর্দান্ত সিরিজ যাবে। ওঁদের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ!’ নতুন অধিনায়ক শুভমানও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘সিনিয়রদের পাশে পেয়ে আমি সৌভাগ্যবান। চাই ওঁরা মুক্ত মনে খেলুন, নেতৃত্বের বোঝা ছুঁড়ে ফেলে!’
যদিও আপাতত দলের অবস্থা শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত। লম্বা জার্নি, সময়ের ফারাক, নিদ্রাহীন রাত—সব মিলিয়ে ক্লান্ত টিম ইন্ডিয়া এখন চাইছে একদিনের বিশ্রাম। তারপরই শুরু হবে আসল যুদ্ধ—পার্থের গরম হাওয়ায়, অজি গতির সামনে, নিজেদের ছন্দে ফেরার লড়াই।