গত আইপিএল ও ইংল্যান্ড সফরে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল। কিন্তু তাঁরও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তরুণ ওপেনার সাই সুদর্শনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

যশস্বী জয়সওয়াল
শেষ আপডেট: 12 August 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইংল্যান্ড সফর শেষ। শুভমান গিলের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পাঁচ টেস্টের সিরিজ সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এবার ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এশিয়া কাপ, যা এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হবে। এই টুর্নামেন্টে সব থেকে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এবারও তারা ফেভারিট হিসাবেই নামবে।
এদিকে, ভারতের এশিয়া কাপের দলে কারা কারা সুযোগ পাবেন, সেই নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ বা ২০ অগস্ট এশিয়া কাপের দল (India's Squad For Asia Cup) ঘোষণা করবে অজিত আগারকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। তবে দল ঘোষণার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে সেন্টার অব এক্সিলেন্সেসের ক্রীড়া বিজ্ঞান টিমের মেডিকেল বুলেটিন। দল নির্বাচন করা হবে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও সুস্থতা বিচার করে।
পিটিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এশিয়া কাপের দলে যে পাঁচ জনের নাম প্রায় নিশ্চিত তাঁরা হলেন- অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া। তবে পান্ডিয়া ও সূর্যকে নিয়ে প্রশ্ন আছে। পুরোপুরি চোট মুক্ত হলেই দলে সুযোগ পাবেন তাঁরা। ব্যাটিং অর্ডারের টপ ফাইভেও এই পাঁচজন থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অভিষেক শর্মা। পাশাপাশি গত মরশুমে ব্যাটার ও উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন সঞ্জু। শুভমান গিল (Shubman Gill) গত আইপিএল ও ইংল্যান্ড সফরে দুরন্ত পারফর্ম করলেও তিনি হয়তো সুযোগ নাও পেতে পারেন। তবে একান্তই যদি সূর্যকুমারকে না পাওয়া যায়, তবে গিল হতে পারেন অটোমেটিক চয়েজ। সেই সঙ্গে দলের নেতৃত্বও হয়তো তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।
নির্বাচকদের কাছে প্রধান সমস্যা হল, ভারতের টপ-অর্ডারের একাধিক ব্যাটার সম্প্রতি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। গত আইপিএল ও ইংল্যান্ড সফরে দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal)। কিন্তু তাঁরও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তরুণ ওপেনার সাই সুদর্শনের (Sai Sudharsan) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এমনকি অভিজ্ঞ ব্যাটার কেএল রাহুলও (KL Rahul) সুযোগ পাবেন কি না, সেই বিষয়ে নিশ্চয়তা নেই। কারণ টপ-অর্ডারে অভিষেক, সঞ্জু, তিলকরা রয়েছেন, আর রাহুলও ওপর দিকেই নামেন। তাই তাঁকে সুযোগ দিতে গেলে কোপ পড়তে পারে ফর্মে থাকা কোনও ব্যাটারের উপর। পাশাপাশি রিঙ্কু সিংও হয়তো এশিয়া কাপের দলে সুযোগ পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। রিঙ্কু তাঁর শেষ অর্ধ-শতকটি করেছিলেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।
সঞ্জু দলে থাকা মানে, তিনিই উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসাবে দেখা যেতে পারে ধ্রুব জুরেল বা জীতেশ শর্মাকে। জুরেল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও টিম ইন্ডিয়ার অংশ ছিলেন। এদিকে জীতেশ গত আইপিএলে আরসিবির হয়ে দারুণ পারফর্ম করেছেন। ফিনিশারের ভূমিকায় তিনি ক্রমশ পরিণত হয়ে উঠছেন।
চোট মুক্ত হলে অলরাউন্ডার হিসাবে হার্দিকের দলে থাকা নিশ্চিত। পেসার-অলরাউন্ডার হিসাবে নীতীশকুমার রেড্ডির নাম নির্বাচকদের মাথায় থাকলেও, তিনি চোটমুক্ত নন। শিবম দুবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কামব্যাক সিরিজে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁকে হয়তো দেখা যেতে পারে এশিয়া কাপের দলে।
এশিয়া কাপের দলে স্পিনার হিসাবে ওয়াশিংটন সুন্দর ও অক্ষর প্যাটেলের থাকা নিশ্চিত। সঙ্গে থাকবেন কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী। জসপ্রীত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং পেস বিভাগে নিজেদের স্লট বুকিং করে ফেলেছেন। তৃতীয় পেসারের লড়াইয়ে রয়েছেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও হর্ষিত রানা।
এশিয়া কাপের জন্য ভারতের সম্ভাব্য স্কোয়াড: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), শুভমান গিল, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), তিলক বর্মা, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানা/প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, হার্দিক পান্ডিয়া, ধ্রুব জুরেল/জীতেশ শর্মা।