Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

বায়ার্ন কি এবারও অটোপাইলট মোডে বুন্দেশলিগা জিতবে? নাকি চ্যালেঞ্জ জানাবে নতুন কোনও শক্তি?

লেভারকুজেনের আক্রমণাত্মক উত্থান, লাইপজিগের পরিকল্পিত টিম বিল্ডিং—সব মিলিয়ে সওয়াল ক্রমশ দানা পাকাচ্ছে: এবারও কি বায়ার্ন তাদের দাদাগিরি বজায় রাখবে? 

বায়ার্ন কি এবারও অটোপাইলট মোডে বুন্দেশলিগা জিতবে? নাকি চ্যালেঞ্জ জানাবে নতুন কোনও শক্তি?

বায়ার্ন মিউনিখ

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 12 August 2025 15:58

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুন্দেশলিগা ও বায়ার্ন মিউনিখ কার্যত সমার্থক। একটা ক্লাব যদি ঘরোয়া লিগ রেকর্ড সংখ্যক ৩৩বার নিজেদের দখলে রাখে তাহলে ‘একপেশে’ বিশেষণটাও জোলো বলে মনে হয়!

ছুটকো-ছাটকা একটা-দুটো দল যে প্রতিস্পর্ধা দেখায়নি, তা নয়। কোনওবার ডর্টমুন্ড, কখনও বায়ার্ন লেভারকুজেন লিগ খেতাব জিতেছে। কিন্তু তা কতখানি সেই সমস্ত ক্লাবের গৌরব আর কতটা বায়ার্নের সুইচ অফ হয়ে যাওয়ার ফল—তা নিয়ে তর্ক উঠতেই পারে। মিউনিখের ফর্মের ঝাড়বাতি আচমকা নিভে না গেলে ক্লপের ডর্টমুন্ড কি পারত বুন্দেশলিগা জিতে নিতে?—প্রশ্নটা দশক পেরনোর পরেও জার্মানির আকাশে-বাতাসে ঘুরপাক খায়।

যদিও শেষের চার-পাঁচ মরশুমে একটা লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। লেভারকুজেনের আক্রমণাত্মক উত্থান, লাইপজিগের পরিকল্পিত টিম বিল্ডিং—সব মিলিয়ে সওয়াল ক্রমশ দানা পাকাচ্ছে: এবারও কি বায়ার্ন তাদের দাদাগিরি বজায় রাখবে? নাকি নতুন কোনও ক্লাবের উত্থান আমরা লক্ষ্য করব?

ট্রান্সফার মার্কেটে বায়ার্ন এবার বড়সড় ধামাকা করেনি। বরং, দলকে কিছুটা কেটেছেঁটে হালকা করেছে, যাতে তরুণদের সুযোগ দেওয়া যায়। তবু, অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতে লেভারকুজেন থেকে জার্মান জাতীয় দলের সেন্টার-ব্যাক জোনাথান তাহকে চার বছরের চুক্তিতে আনা হয়েছে। রক্ষণে তাঁর উপস্থিতি মানেই স্থৈর্য ও নেতৃত্ব—যা লিগের দীর্ঘ মরশুমে কাজে লাগবে!

যদিও দল বদলে কিংসলি কোমান চলে যাচ্ছেন সৌদি ক্লাব আল-নাসরে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরোতে। তাঁর মতো বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া উইঙ্গারকে হারানো সহজ নয়। তাই বায়ার্ন আক্রমণভাগে নতুন সংযোজনের খোঁজে রয়েছে। চেলসির ক্রিস্টোফার এনকুনকুর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বাজারে দাম আকাশছোঁয়া, চুক্তির শর্ত জটিল। স্টুটগার্টের তরুণ স্ট্রাইকার নিক ওল্তেমাদের জন্য দরকষাকষি জারি রয়েছে। যদি একটা হিল্লে বেরয়, তাহলে এটা বড় সাইনিং। ভবিষ্যতের বিনিয়োগও বটে।

প্রি-সিজনে বায়ার্ন অবশ্য ভালো ছন্দে। টটেনহ্যামকে চার গোলে উড়িয়ে দেওয়াই এর প্রমাণ। কিন্তু একটা আস্ত সিজন দাপট ধরে রাখতে গেলে শেষ মুহূর্তে হলেও অন্তত দুজন বড় ফুটবলারকে আনা প্রয়োজন।

এই সূত্রেই উঠে আসছে লেভারকুজেনের নাম। গেল মরশুমে তারা বায়ার্নকে যথেষ্ট চাপে রেখেছিল। জাবি আলোনসোর শিষ্যরা দুর্দান্ত শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা দেখান। এবার ট্রান্সফার মার্কেটে তেমন হইচই না হলেও মূল স্কোয়াড অটুট। রেন থেকে ফরোয়ার্ড মার্টিন তেরিয়ের, বার্সেলোনা থেকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ডিফেন্ডার নাতালিকে আনা স্কোয়াডের গভীরতা বাড়াবে।

আসলে লেভারকুজেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হল দল গড়ে তোলার কৌশলগত ধৈর্য। শীর্ষ একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই পরিণত, একে অপরের খেলার ধরন চেনে। যদি বড়সড় কোনো চোটের আশঙ্কা না আসে, তবে তারা আবারও শিরোপা দখলের দৌড়ে থাকবে, এটা নিশ্চিত।

রেসে লড়বে লাইপজিগও। বরাবরের ‘প্রজেক্ট ক্লাব’। তরুণ প্রতিভা এনে তাকে বড় খেলোয়াড়ে পরিণত করে। এবারও ছবিটা পাল্টায়নি। আসান উয়েদ্রাওগো, অ্যান্টোনিও নুসা, আর্থার ভারমেরেন—কেউ প্রতিশ্রুতিশীল মিডফিল্ডার, কেউ সম্ভাবনাময় উইঙ্গার। সবচেয়ে বড় নাম জাভি সিমন্স, যিনি সৃষ্টিশীল, পরিশ্রমী। তিনি যদিও ক্লাবে থাকবেন কিনা নিশ্চিত নয়। যদিও সিমন্স দল ছাড়লে বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন রিডলে বাকু। যিনি এছাড়া থেকে এসে ডান প্রান্তে গতি বাড়িয়েছেন।

যদিও লাইপজিগের বড় স্বপ্ন ক্রিস্টোফার এঙ্কুঙ্কুকে আবার ফিরিয়ে আনা। তেমনটা ঘটলে আক্রমণভাগ নতুন ধার পাবে। যদিও দাম ও প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির সঙ্গে আলোচনা চালানো সহজ নয়।

একদিকে বায়ার্ন। যেখানে এখনও মানুয়েল নয়্যার, যশুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা, হ্যারি কেনের মতো তারকা রয়েছেন। অভিজ্ঞতা, জয়ের অভ্যাস এবং বড় ম্যাচ সামলানোর মানসিক শক্তি—সবই তাদের পক্ষে। কিন্তু কোমানের বিদায়ের পর আক্রমণে বৈচিত্র্য কমতে পারে।

অন্যদিকে লেভারকুজেন। নতুন সিজনে পরিচিত ফর্মেশন ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নামছে। তাদের রসায়ন বায়ার্নের চেয়েও পোক্ত। লাইপজিগ আবার ফিটনেস ও তরুণদের ছন্দ পেলে একেবারে শেষ পর্যন্ত দৌড়াতে পারে।

সুতরাং, ২০২৫–২৬ সিজনে বুন্দেশলিগা একঘেয়ে হবে, এমনটা বলা এখনই ঠিক নয়। বায়ার্ন ফেভারিট, কিন্তু ব্যবধান কমছে। লেভারকুজেন ও লাইপজিগ যদি নিজেদের ছন্দ বজায় রাখে, তবে শিরোপা দখলের লড়াই অনেক দিন পর ত্রিমুখী লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে।


```