বিশ্লেষকদের চোখে, এই নির্বাসন কেবল একটা বোর্ডকে শাস্তি দেওয়া নয়। প্রচ্ছন্ন সাবধানবার্তাও বটে—যদি নিয়ম মানা না হয়, যদি দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে বড় দেশ হোক বা ছোট, ক্রিকেটের দরজা কারও জন্যই চিরতরে খোলা থাকবে না।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 24 September 2025 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লস অ্যাঞ্জেলেস (২০২৮) অলিম্পিক্সের আগে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ক্রিকেট যখন অলিম্পিক্সের মঞ্চে ফিরছে, তখন তার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) নির্বাসিত করল আমেরিকাকে (USA Cricket)। আড়ালে একটার পর একটা নিয়ম ভাঙা, শাসনব্যবস্থার গড়বড় আর মার্কিন অলিম্পিক্স কমিটির (USOPC) স্বীকৃতি না পাওয়ার গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ।
কেন এই শাস্তি?
আইসিসির রায় স্পষ্ট: বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নিয়ম মানছে না ইউএসএ ক্রিকেট। তিনটে বড় ব্যর্থতা এই শাস্তির মূল কারণ!
১) কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে না পারা।
২) মার্কিন অলিম্পিক অ্যান্ড প্যারালিম্পিক কমিটি (USOPC)-র কাছ থেকে স্বীকৃতি না জোটা (অথচ নিজের সংবিধানেই এই শর্ত বেঁধে দিয়েছে ইউএসএ ক্রিকেট)।
৩) দেশের ভেতরে আর বাইরের দুনিয়ায় ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
যদিও বিষয়টা হঠাৎ হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাইতেই আইসিসি নোটিস পাঠায়। বলা হয়, ১২ মাস দিচ্ছি। তার মধ্যে যদি নিয়মকানুন মেনে না চল, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ইউএসএ ক্রিকেট একটাও শর্ত পূরণ করেনি। তাই বার্ষিক সাধারণ সভাতেই সানপেশনসনে সিলমোহর পড়ল।
কত দিনের জন্য নির্বাসন?
নির্দিষ্ট কোনও টাইমলাইন বেঁধে দেওয়া হয়নি। যতদিন পর্যন্ত না বোর্ড নিজেদের গুছিয়ে নেয়, নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনে, ইউএসওপিসি-র স্বীকৃতি পায়, ততদিন এই নির্বাসন লাগু থাকবে। একটা রোডম্যাপ বানাবে আইসিসি। নিয়মিত অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে। পরিবর্তন যত দ্রুত, ফেরার রাস্তা তত তাড়াতাড়ি খুলবে।
খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ
এটাই বড় প্রশ্ন। শাস্তি পড়েছে বোর্ডের ঘাড়ে, ক্রিকেটারদের নয়। তাই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকার পুরুষ ও মহিলা জাতীয় দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এমনকি ২০২৮ অলিম্পিক্সের প্রস্তুতিও চলবে স্বাভাবিক ছন্দে। তবে গোটা হাই-পারফরম্যান্স সিস্টেম, দল পরিচালনা ইত্যাদি দেখবে আইসিসি মনোনীত প্রতিনিধি। খেলোয়াড়দের স্বার্থ যাতে মার না খায়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।
এর মানে দাঁড়াল—
আমেরিকার ক্রিকেট প্রশাসন কার্যত ভেঙে পড়েছে। নির্বাচন নেই, স্বচ্ছতা নেই, স্বীকৃতি নেই। অথচ নিয়মকানুনে প্রতিটা শর্তই পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল। সহজ বাংলায় বললে, আমেরিকার ক্রিকেট বোর্ড নিজেরাই ফাঁসির দড়ি গলায় বাঁধে। আইসিসি সেটা টেনে ধরল মাত্র!
আগামীর পথ?
অত্যন্ত কষ্টকর। বোর্ডকে পুরোটা নতুন করে সাজাতে হবে। স্বচ্ছ নির্বাচন, সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা—সব কিছুতে নজর থাকবে আইসিসির। সবচেয়ে জরুরি, ইউএসওপিসি-র কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া। না হলে অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের পতাকা উড়বে না।
বিশ্লেষকদের চোখে, এই নির্বাসন কেবল একটা বোর্ডকে শাস্তি দেওয়া নয়। প্রচ্ছন্ন সাবধানবার্তাও বটে—যদি নিয়ম মানা না হয়, যদি দায় এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে বড় দেশ হোক বা ছোট, ক্রিকেটের দরজা কারও জন্যই চিরতরে খোলা থাকবে না।