আজকের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার অবস্থাও খুব সুখের নয়। বাংলাদেশ তাদের হারিয়ে আট ম্যাচের টানা জয়রথ থামিয়েছে। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে ফাঁক–ফোকর স্পষ্ট।

পাকিস্তান টিম
শেষ আপডেট: 23 September 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইশ গজের বাইরে যত নাটক জমে উঠুক না কেন, বাস্তব বড় নির্দয়! আর সেই বাস্তব বলছে: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) সুপার ফোরে (Super Four) পাকিস্তানের কপাল জ্বলছে লাল বাতি। ভারতের (India) কাছে লজ্জার হারের জেরে সলমন আঘারা শুধু পয়েন্ট টেবিলের তলানিতেই নেই, নেট রানরেটেরও এমন করুণ দশা, যে আজ শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) কাছে হারলেই কার্যত বিদায় নিশ্চিত।
পরিস্থিতি খানিকটা এরকম—ভারত ও বাংলাদেশ (Bangladesh) ইতিমধ্যেই দু’পয়েন্ট করে তুলে নিয়েছে। নেট রানরেটের হিসাবে ভারত +০.৬৮৯, বাংলাদেশ +০.১২১। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দু’দলই সুপার ফোরে জয়ের মুখ দেখেনি। তবে লঙ্কা বাহিনীর নেট রানরেট –০.১২১ হলেও পাকিস্তানের অবস্থা আরও ভয়াবহ—–০.৬৮৯! অর্থাৎ, আজ শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপার ফোরেই থামতে হবে আফ্রিদিদের।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এতখানি খাদের কিনারে এসে দাঁড়াল তারা? উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরতে হবে আগের ম্যাচে। ভারতের বিরুদ্ধে শুরুটা খারাপ হয়নি। সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan), ফখর জামান (Fakhar Zaman) আর সাইম আয়ুব (Saim Ayub) মিলে লড়াকু কায়দায় তুলেছিলেন ৯০ রান। সাইম তো একেবারে বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে ফিরে এসেছেন। টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানের পর অবশেষে পরিচিত ছন্দে। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো পাকিস্তান ভরসা জোগাবে। লড়াই দেবে। কিন্তু এরপরই অবধারিত, চিরপরিচিত পতন। মিডল অর্ডার মুহূর্তে গুটিয়ে গেল। ১৭১ রানের বেশি তুলতে ব্যর্থ। জবাবে ব্যাট হাতে নেমে অভিষেক শর্মার তাণ্ডবলীলা পাকিস্তানের যাবতীয় উদ্যমকে হাস্যকর করে দিল।
বোলিংয়েও একই গল্প। লেগস্পিনার আবরার আহমেদ (Abrar Ahmed) গ্রুপ পর্বে ছোট দলগুলির বিরুদ্ধে যতটা কার্যকরী, ভারতের শক্তিশালী টপ অর্ডারের সামনে ততটাই নিষ্ক্রিয়। পেস আক্রমণ তো এমনিতেই প্রাণহীন। শাহিন শাহ আফ্রিদির (Shaheen Shah Afridi) না আছে ভার, না আছে ধার। ফলে ভারতীয় ব্যাটাররা চেপে ধরলেন সহজে৷
আজকের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার অবস্থাও খুব সুখের নয়। বাংলাদেশ তাদের হারিয়ে আট ম্যাচের টানা জয়রথ থামিয়েছে। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে ফাঁক–ফোকর স্পষ্ট। পাথুম নিশাঙ্কার (Pathum Nissanka) ধারাবাহিকতা নেই। তবে কুশল মেন্ডিস (Kusal Mendis) ও কামিল মিশারা (Kamil Mishara) এখনও ভরসা জোগাচ্ছেন। দাসুন শঙ্করের (Dasun Shanaka) ব্যাটে যে আক্রমণাত্মক ঝলক দেখা গেছে, তা পাকিস্তান ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বল হাতে শ্রীলঙ্কার ভরসা নুয়ান থুশারা (Nuwan Thushara)। ডেথ ওভারে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, ইতিমধ্যেই ছ’উইকেট তুলে নেওয়া, পাকিস্তানের টলমল ব্যাটিংকে চূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট। তা ছাড়া, স্পিন অলরাউন্ডার দুনিথ ভেল্লালাগে (Dunith Wellalage) ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে দলে ফিরছেন। তাঁর উপস্থিতি দলের ভারসাম্য ফেরাতে পারে।
এখানে ভারতের ভূমিকাও কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে হারিয়ে শুধু পয়েন্টই ছিনিয়ে নেননি সূর্যকুমাররা, পাশাপাশি তাদের নেট রানরেট এমন জায়গায় ঠেলে দিয়েছেন যে, শ্রীলঙ্কা আজ সামান্য ব্যবধানে জিতলেই কয়েক কদম এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ, পাক ব্রিগেডের পরাজয়ে শ্রীলঙ্কার সামনে বড়সড় সুযোগ।
পাকিস্তানের মাঠের ব্যর্থতার সঙ্গে মাঠের বাইরের নাটক যেন পরিস্থিতি আরও জটিল করছে। একবার ম্যাচ রেফারি সরানোর দাবি, আরেকবার হাত না মেলানোর বিতর্ক (Handshake Controversy), কখনও ফখর জামানের আউট (Fakhar Zaman Controversial Dismissal) নিয়ে আইসিসির (ICC) কাছে অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনায় তারা মনোযোগ হারাচ্ছে। এই অস্থিরতা দলকে মাঠেও বেকায়দায় ঠেলেছে। নেতৃত্বের আসনে সলমন আলি আঘার (Salman Ali Agha) অপ্রস্তুত। বোর্ডের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা আর পরাজয়ের দায় স্বীকার না করার প্রবণতা—সব মিলিয়ে ছবিটা ক্রমশ অন্ধকার।
আজকের ম্যাচ তাই কার্যত ‘নকআউট’। শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক রেকর্ডও আফ্রিদিদের দুশ্চিন্তায় রাখবে। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে টানা পাঁচটি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে (T20I) তারা লঙ্কা বাহিনীর কাছে হেরেছে।
সেই অভিশাপ কি এবারও চলবে?