পাকিস্তান যা প্রচার করছিল, বাস্তবে তা অনেকটাই ফাঁপা। তবু পিসিবি-প্রধান নকভির বক্তব্য, তাঁরা এখনও চান তদন্ত হোক। অন্যদিকে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে—সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কিচ্ছু হবে না।

মহসিন নকভি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) মঞ্চে হাত না মেলানো বিতর্ক ঘিরে পাকিস্তানের বয়কট–হুমকি চরমে উঠেছিল। বুধবার পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, আমিরশাহি ম্যাচের আগে নির্ধারিত সময়ে হোটেল থেকে বেরোয়নি পাক দল। মনে হচ্ছিল, হয়তো শেষমেশ টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়াবেন সলমন আঘারা। কিন্তু মাঠে দেখা গেল ভিন্ন ছবি—আমিরশাহির (UAE) বিরুদ্ধে সেই খেলতে নামল পাকিস্তান।
কেন এমন ইউ–টার্ন? এবার তার কৈফিয়ত শোনালেন পাক ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর থেকে একটা সংকট তৈরি হয়। আমরা ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় আপত্তি জানিয়েছিলাম। অল্প কিছুক্ষণ আগে তিনি আমাদের কোচ, অধিনায়ক আর ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বীকার করেছেন, ঘটনাটা (হ্যান্ডশেক-কাণ্ড) হওয়া উচিত ছিল না। আমরা আইসিসিকেও অনুরোধ করেছি, যেন তদন্ত বসানো হয়!’
তাহলে পাকিস্তান বয়কট থেকে সরে এল স্রেফ রেফারির ‘ভুলস্বীকারে’? নাকি আড়ালে অন্য কারণ? আর্থিক লোকসানের ভয়? শাস্তিত আতঙ্ক? কূটনৈতিক মাপজোক? নকভি যদিও সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে জানিয়েছেন, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়। তাঁর কথায়, ‘এটা খেলা, তাই খেলা হিসেবেই থাকুক। ক্রিকেটকে এসবের বাইরে রাখতে হবে। বয়কটের মতো সিদ্ধান্ত বড় ব্যাপার। প্রধানমন্ত্রী, সরকার, সবাই আলোচনা করেছেন। পূর্ণ সমর্থনও ছিল। আমরা বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছিলাম!’
অন্যদিকে, উলটো সুরে গেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। ছয় দফা জবাবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তাদের বক্তব্য, পাইক্রফট (Andy Pycroft) টুর্নামেন্ট আয়োজকদের অবস্থানই দুই অধিনায়ককে জানিয়েছেন মাত্র। তাঁর অন্য কোনও এজেন্ডা ছিল না। তিনি নিয়মভঙ্গ করেননি। বরং, টসের মর্যাদা অটুট রাখতেই ওই পদক্ষেপ। আইসিসির মতে, টুর্নামেন্ট–সংক্রান্ত প্রোটোকল দেখা ম্যাচ রেফারির কাজ নয়, সেটি আয়োজনকারীদের দায়িত্ব।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান যা প্রচার করছিল, বাস্তবে তা অনেকটাই ফাঁপা। তবু পিসিবি-প্রধান নকভির বক্তব্য, তাঁরা এখনও চান তদন্ত হোক। অন্যদিকে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে—সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কিচ্ছু হবে না। ফলত, এশিয়া কাপ ঘিরে পাকিস্তান হম্বিতম্বি দেখালেও শেষ পর্যন্ত বয়কটের কিনারে গিয়ে তাদের পিছিয়ে আসতেই হল।