আপাতত ফাইনালের আগে ১৪ ম্যাচে ৬১৪ রান তুলে কোহলি প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি কতটা সংকল্পবদ্ধ, কতটা অচঞ্চল! আগের মতো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। কিন্তু অধিনায়ক রুতুরাজকে সর্বোতভাবে সাহায্য করে চলেছেন। দল হিসেবে আরসিবি কতটা ঐক্যবদ্ধ, সেটা শরীরী ভাষায় বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছেন বিরাট।

বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 3 June 2025 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন ক্রিকেটারের অমরত্বলাভের জন্য জমকালো ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি ঠিক কোন কোন খেতাব অর্জন জরুরি?
আর সবার কাছে জবাবটা ‘বিশ্বকাপ’ হলেও বিরাট কোহলির (Virat Kohli) কাছে আপাতত আইপিএল-ই (IPL) পরম মোক্ষ। উইশ লিস্টের সমস্ত বক্সে ‘টিক’ পরে গিয়েছে। বাকি একটাই—আইপিএল। এই ট্রফি হাতে উঠলেই বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম চিরতরে খোদাই করে ফেলবেন বিরাট।
সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর (Virat Kohli Retirement) নিয়েছেন। জলঘোলা, বিতর্ক কম হয়নি। অনেকে প্রশ্ন ছুড়েছে, কেউ কেউ ঠেস মেরেছে। টেকনিকের গলদকে কাঠগড়ায় তুলে সওয়াল তুলেছে—অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা মারার রোগ যে কিছুতেই সারাতে পারলেন না বিরাট। তাই লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল কি?
আপাতত ফাইনালের আগে ১৪ ম্যাচে ৬১৪ রান তুলে কোহলি প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি কতটা সংকল্পবদ্ধ, কতটা অচঞ্চল! আগের মতো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। কিন্তু অধিনায়ক রুতুরাজকে সর্বোতভাবে সাহায্য করে চলেছেন। দল হিসেবে আরসিবি কতটা ঐক্যবদ্ধ, সেটা শরীরী ভাষায় বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছেন বিরাট। অধিনায়ক হিসেবে একবার এবং দলের সদস্য হিসেবে মোট তিনবার আইপিএল ট্রফি জেতার কাছাকাছি পৌঁচেছিলেন বিরাট। শেষবার ২০১৬ সালে। কিন্তু তিনবারই খেতাব হাতে এসেও আসেনি।
এই নকশা, এই ভবিতব্যই পালটে দিতে চাইছেন বিরাট। আজ পর্যন্ত প্রতিটি মরশুমে আরসিবির (RCB) জার্সিতে নেমেছেন। কিন্তু প্রথম সিজনে তিনি নিছকই ‘প্রতিশ্রুতিমান’। সেভাবে তারকা হয়ে ওঠেননি। এখন বিরাট কোহলি জ্যোতিষ্ক। সইশিকারীদের ভিড় আগেও পিছু নিত। কিন্তু তখন বিষয়টা ছিল নেহাতই উন্মাদনা। এখন তাতে মিশে গিয়েছে দীর্ঘশ্বাস! টি-২০, টেস্টের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে শুধুমাত্র ওয়ান ডে-র জার্সিতে নামছেন বিরাট। হয়তো বেশি দিন দেরি নেই। হয়তো কিছুদিন বাদে সেটাও তুলে রাখবেন। আঠারোতম আইপিএলের মরশুমে আঠারো নম্বর জার্সি নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ ও আসক্তি থাকাটা মোটেও বাহুল্য নয়।
আগের চাইতে বদলে গিয়েছেন বিরাট। মানছেন তাঁর একদা সতীর্থ এবি ডিভিলিয়ার্সও। বলেছেন, ‘কোহলিকে অনেক বেশি ফোকাসড দেখাচ্ছে। কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু আমি নিশ্চিত, ফাইনালে দলের হয়ে সেরাটা উজাড় করে দেবে বিরাট।‘
২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আরসিবিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আগে অনিল কুম্বলে, ড্যানিয়েল ভেত্তোরি, ক্রিস গেইল, ডিভিলিয়ার্সের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশে পেলেও এখন দল পুরোদস্তুর তরুণদের দিয়ে গড়া। আর সেই বাহিনীর অভিজ্ঞতম সদস্য স্বয়ং বিরাট। কিন্তু তা সত্ত্বেও নেতৃত্বের রাশ নিজের হাতে রাখতে নারাজ। দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন রজত পাটিদারের হাতে। তাঁরই ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে উঠছেন সহ-অধিনায়ক জিতেশ শর্মা।
শুধু মাঠের বাইরে ইমপুট দেওয়াই নয়, ব্যাট হাতেও আক্ষরিক অর্থে সামনে দাঁড়িয়ে দল পরিচালনা করছেন। নামছেন ওপেনে। সঙ্গী ফিল সল্ট। একজন ধরে রাখছেন, অন্যজন চালিয়ে খেলছেন। অনবদ্য তালমিল, দুর্দান্ত বোঝাপড়া। যে কারণে, ওপেনিং পার্টনারশিপেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে রাখতে পারছে বেঙ্গালুরু শিবির।
বিরাট কোহলি কখনওই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য আইপিএলে নাম কুড়োননি। আগ্রাসনের সঙ্গে মিশে রয়েছে ধ্রুপদীয়ানা! যে কারণে ১৪ ম্যাচে ৬১৪ রান এসেছে ঠিকই। কিন্তু স্ট্রাইক রেট ১৪৬ পার করেনি। সর্বোচ্চ রান (৭৩) পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে, প্রথম কোয়ালিফায়ারে। এ ছাড়া ব্যাট থেকে এসেছে আরও সাতটি হাফ-সেঞ্চুরি।
আজও আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বিরাটের থেকে আরও একটি সুচিন্তিত, গোছানো ইনিংস দেখতে চাইবেন আরসিবি-অনুরাগীরা। ‘আঠারো’-র যোগ কাটাবে ভাগ্যদোষ, টিম ক্যাবিনেটে ঢুকবে প্রথম ট্রফি—আশায় বুক বাঁধছে বেঙ্গালুরু।