বাজেট ২০২৬-এ কৃষি ও গ্রামোন্নয়নে বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর। এআই প্ল্যাটফর্ম থেকে উচ্চ-মূল্যের ফসল—কৃষকের আয় বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ।

বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 1 February 2026 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট (Budget 2026) পেশ করে কৃষি ও গ্রামোন্নয়নে বেশ কয়েকটি বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে কৃষক অশন্তোষের মাঝেই তাদের আয় বাড়ানো, গ্রামীণ জীবিকা শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠল তাঁর বক্তব্যে। সরকারের তৃতীয় ‘কর্তব্য’ (Kartavya) নীতি অনুযায়ী সবকা সাথ, সবকা বিকাশের ভাবনাকে আরও মজবুত করতেই যুবশক্তিকে ক্ষমতায়ন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য থেকে পশুপালন—পরিকাঠামোয় জোর
অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিজের নবম কেন্দ্রীয় বাজেটে মৎস্যখাতে বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন সীতারামন। ৫০০টি রিজার্ভয়ার (Reservoirs) এবং অমৃত সরোবরের (Amrit Sarovar) সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি উপকূলবর্তী অঞ্চলে স্টার্টআপ, মহিলা গোষ্ঠী এবং ফিশ ফার্মার প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের (FFPOs) মাধ্যমে বাজার-সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এর মাধ্যমে মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়বে, আয়ও স্থায়ী হবে।
গ্রাম ও শহরতলির বেকার যুবকদের চাকরির সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে পশুপালন খাতে (Animal Husbandry) উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ক্রেডিট-লিঙ্কড ভর্তুকির (Credit-Linked Subsidy) ঘোষণা করা হয়েছে। আধুনিক পশুপালন, দুগ্ধ এবং পোলট্রি ভ্যালু চেনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি লিভস্টক এফপিও গঠনে উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদকরা সরাসরি লাভবান হতে পারেন।
কোকো, কাজু, নারকেল—উচ্চ-মূল্যের কৃষিতে ধাক্কা
উচ্চ-মূল্যের কৃষিতে উৎসাহ দিতে উপকূলবর্তী অঞ্চলে কোকো (Cocoa), নারকেল (Coconut), কাজু (Cashew) এবং চন্দনকাঠে (Sandalwood) বিশেষ সহায়তার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্যান্য বৃক্ষশস্য চাষে উৎসাহ দেওয়া হবে, পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ানো হবে আখরোট (Walnut), কাঠবাদাম (Almond), পাইন নাট (Pine Nut) উৎপাদন।
চন্দনকাঠ নিয়ে নির্মলার মত, ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই সম্পদকে পুনরুজ্জীবিত করতেই কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে চন্দনকাঠের ফোকাসড চাষ এবং পোস্ট-হারভেস্ট প্রসেসিংয়ের (Post-Harvest Processing) উপর জোর দেওয়া হবে। পুরনো ও কম উৎপাদনশীল বাগান পুনরুজ্জীবন, সঙ্গে বেশি ঘনত্বে বাদাম ও নাটের চাষ—এই দুই ফ্রন্টে কাজ করবে কেন্দ্র।
স্বয়ংসম্পূর্ণ দক্ষিণ ভারত
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারকেল উৎপাদক—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে সীতারামন ঘোষণা করলেন নতুন কোকোনাট প্রোমোশন স্কিম (Coconut Promotion Scheme)। বুড়ো ও কম উৎপাদনশীল গাছ ফেলে উন্নত মানের চারাগাছ লাগানো হবে প্রধান নারকেল-উৎপাদক রাজ্যগুলিতে।
কাজু ও কোকোর জন্য বিশেষ প্রকল্পে দক্ষিণ ভারতকে কাঁচামালের দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে। লক্ষ্য একটাই, ভারতীয় কাজু ও কোকোকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রিমিয়াম গ্লোবাল ব্র্যান্ডে পরিণত করা।
ফার্মিংয়ে এআই—‘ভারত ভিস্তা’
কৃষকদের জন্য বড় প্রযুক্তিগত চমক—‘ভারত ভিস্তা’ (Bharat Vista)। বহু-ভাষিক এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটি জায়গায় জুড়ে দেবে অ্যাগ্রি স্ট্যাক (Agri Stack), আইসিএআর-এর (ICAR) কৃষি প্র্যাকটিস এবং স্থানীয় তথ্য। ফসল নির্বাচন, ইনপুট সিদ্ধান্ত, উৎপাদন বাড়ানো থেকে ঝুঁকি কমানো—সব ক্ষেত্রেই কৃষকদের ব্যক্তিগতকৃত পরামর্শ দেবে এটি।
বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ
ফসল বীমা প্রকল্প (Crop Insurance Scheme)
সুদের ভর্তুকি প্রকল্প (Modified Interest Subvention Scheme)
পিএম-আশা (PM-AASHA)
পিএম-কিষান (PM-Kisan)
ভারত-বিস্তার (Bharat-VISTAAR)
উচ্চ-মূল্য কৃষি সহায়তা (High Value Agriculture Support)
মোটের উপর বাজেট ২০২৬ স্পষ্ট করে দিল—কৃষি আর শুধু ফসল উৎপাদন নয়, তা হয়ে উঠছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বাজারসংযোগ ও বিশ্বমানের উৎপাদনে জোর দেওয়া এক আধুনিক সেক্টর। সীতারামনদের লক্ষ্য একটাই—ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে আরও শক্তিশালী, স্থায়ী এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে মানানসই কৃষিব্যবস্থা তুলে দেওয়া।