Budget 2026: অন্যতম আকর্ষণ, দেশজুড়ে SHE-Marts, অর্থাৎ মহিলাদের (Budget for Women) মালিকানাধীন ও পরিচালিত কমিউনিটি রিটেল নেটওয়ার্ক (Union Budget 2026)।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
শেষ আপডেট: 1 February 2026 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উদ্যোক্তা থেকে শিক্ষার্থী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলাদের (Budget 2026 And Women) জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের সাফল্যের পর, মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পরবর্তী ধাপে পৌঁছে দিতে বাজেটে তুলে ধরা হল নতুন এক রূপরেখা। তারই অন্যতম আকর্ষণ, দেশজুড়ে SHE-Marts, অর্থাৎ মহিলাদের (Budget for Women) মালিকানাধীন ও পরিচালিত কমিউনিটি রিটেল নেটওয়ার্ক (Union Budget 2026)।
দেশজুড়ে SHE-Marts: ক্ষুদ্র ঋণ থেকে পূর্ণ উদ্যোক্তা হওয়ার পথ
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, গ্রামবাংলার মহিলাদের তৈরি পণ্যকে বাজারের মূল স্রোতে আনতেই এই SHE-Marts চালু করা হচ্ছে। ক্লাস্টার-স্তরের ফেডারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এই রিটেল আউটলেটগুলি মহিলাদের তৈরি সামগ্রীর বিপণন, পরিচিতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে। লক্ষ্য একটাই— স্বনির্ভর গোষ্ঠীভিত্তিক ক্ষুদ্র আয়ের কাজ থেকে বেরিয়ে মহিলাদের টেকসই উদ্যোক্তায় রূপান্তর করা (Budget 2026)।
এই উদ্যোগে নতুন ধরনের আর্থিক ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে মহিলাদের পণ্য বৃহত্তর বাজারে পৌঁছতে পারে।
গ্রামবাংলায় আয়ের নতুন দিশা
সরকারের লক্ষ্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক ভিত আরও মজবুত করা। শুধুমাত্র উৎপাদক নয়, মহিলাদের যেন উদ্যোগের মালিক ও পরিচালকের ভূমিকায় দেখা যায়, সেই ভাবনাই প্রতিফলিত হয়েছে বাজেটে। কমিউনিটি স্তরে সংগঠিত রিটেল ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর নির্ভরতা কমবে বলেই মনে করছে নীতি নির্ধারকরা। এর ফলে মহিলারা তাঁদের পণ্যের প্রকৃত মূল্যও বেশি করে পাবেন। এই পরিকল্পনা গ্রামীণ উন্নয়ন, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির বৃহত্তর লক্ষ্যর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতি জেলায় একটি করে মেয়েদের হোস্টেল
শিক্ষাক্ষেত্রেও মেয়েদের সামনে থাকা বাধা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতি জেলায় একটি করে মেয়েদের হস্টেল তৈরি করা হবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় যুক্ত ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করাই এর উদ্দেশ্য। মেয়েদের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমাতে এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে বলেই আশা।
আয়ুষ, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ জীবিকায় নারীর ভূমিকা
আয়ুষ ক্ষেত্রেও বরাদ্দ বাড়িয়েছে কেন্দ্র। নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক ওষুধ পরীক্ষাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনায় উপকৃত হবেন আয়ুর্বেদ, ভেষজ ও ওয়েলনেস ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বহু মহিলা কর্মী ও উদ্যোক্তা।
একই সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ প্রকল্পের মাধ্যমে খাদি, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাংলার মহিলা কারিগরদের জন্য এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মহিলাদের জন্য আলাদা সহায়তা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মহিলাদের জন্যও বাজেটে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দিব্যাঙ্গন কৌশল যোজনা ও দিব্যাঙ্গ সহায় যোজনার আওতায় প্রশিক্ষণ এবং উন্নত সহায়ক প্রযুক্তির সুযোগ মিলবে। আধুনিক অ্যাসিস্টিভ টেকনোলজি মার্ট এবং পিএম দিব্যাশা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে জীবিকা ও স্বনির্ভরতার পথ আরও প্রশস্ত হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭-এর বাজেটে নারীদের শুধু কল্যাণভোগী নয়, অর্থনীতি ও সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরার স্পষ্ট প্রয়াস দেখা যাচ্ছে। উদ্যোক্তা হওয়া থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান— নারী ক্ষমতায়নের একটি সমগ্র ছবি আঁকতেই এই বাজেট, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।