স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।
_0.jpeg.webp)
ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 1 February 2026 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) স্বাস্থ্যকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বায়ো ফার্মা (Biopharma) সেক্টরের সম্প্রসারণ, মানসিক স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং জীবনদায়ী ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আনার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। বাজেটের (Budget News) এই ঘোষণায় সবচেয়ে স্বস্তির খবর এসেছে ক্যানসার ও বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দামের ক্ষেত্রে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে ক্যানসারের চিকিৎসায় (Cancer Medicine) ব্যবহৃত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই ওষুধগুলির বাজারদর উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাতটি বিরল রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধও শুল্কছাড়ের আওতায় আসছে। চিকিৎসক মহলের মতে, এতদিন উচ্চ দামের কারণে বহু রোগীর পক্ষেই এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছিল। শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত রোগীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারে।
স্বাস্থ্যখাতে ব্যয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। বাজেট বক্তৃতায় (Budget Live) অর্থমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসা হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। সরকারের মতে, এই চিকিৎসা হাবগুলি উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এর ফলে একদিকে যেমন বড় শহরের ওপর চাপ কমবে, তেমনই অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি শহরগুলিতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছবে।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়ুর্বেদ ও যোগচর্চার প্রসারের লক্ষ্যে তিনটি নতুন আয়ুর্বেদ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই কেন্দ্রগুলি শুধু চিকিৎসার জন্য নয়, বরং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও সহায়ক হবে। আধুনিক চিকিৎসা ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এর পাশাপাশি বায়ো ফার্মা সেক্টরের বিকাশকে স্বাস্থ্যনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণা, উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে এক সুতোয় বাঁধতে এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দেশীয় ওষুধ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে কেবল চিকিৎসা ব্যয়ের জায়গা হিসেবে নয়, বরং সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। জীবনদায়ী ওষুধ সস্তা হওয়া, চিকিৎসা পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আয়ুর্বেদ ও যোগের মতো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসার - এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যনীতির এক নতুন দিশা দেখাল ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই ঘোষণাগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।