Budget 2026: বাজেটে ঘোষণা (Union Budget) করা হল নতুন মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ ইনিশিয়েটিভ (Mahatma Gandhi Gram Swaraj Initiative)। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ কি কেবল নীতিগত সংস্কার, না কি নামের রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল?

নির্মলা সীতারামন। গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 1 February 2026 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) নাম সরানো-ফিরিয়ে আনা, এই দ্বন্দ্বই যেন ২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটকে (Budget 2026) ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মূল সুর হয়ে গেল। এক দিকে কংগ্রেস-যুগের (Congress) মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA)-এর নাম বদলে জি রাম জি (G RAM G) আইন কার্যকর করে মোদী সরকার (Modi Government)। অন্যদিকে, সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মধ্যেই বাজেটে ঘোষণা (Union Budget) করা হল নতুন মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ ইনিশিয়েটিভ (Mahatma Gandhi Gram Swaraj Initiative)। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ কি কেবল নীতিগত সংস্কার, না কি নামের রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার কৌশল?
নাম বদল বনাম নাম সংযোজন
জি রাম জি আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার পরিকল্পিত ভাবে প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরাচ্ছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন, “কেন মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলা হচ্ছে? মহাত্মা গান্ধী কেবল দেশের মান্য নেতা নন, গোটা বিশ্বেই তাঁকে সম্মান করা হয়।”
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন আরও এক ধাপ এগিয়ে বিষয়টিকে ‘মহাত্মা গান্ধীর অপমান’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রামীণ কর্মসংস্থানের মতো ঐতিহাসিক প্রকল্প থেকে গান্ধীর নাম মুছে ফেলা নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
এই সমালোচনার আবহেই বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ ইনিশিয়েটিভ—যার লক্ষ্য খাদি, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করা এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।
গ্রাম স্বরাজ বনাম গ্রামীণ রোজগার
দু’টি উদ্যোগের চরিত্র আলাদা হলেও তুলনা অনিবার্য। MGNREGA বা তার উত্তরসূরি VB-G RAM G মূলত গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয় সুরক্ষার প্রকল্প। অন্যদিকে, মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ ইনিশিয়েটিভ শিল্পভিত্তিক— খাদি, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্পকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ব্র্যান্ডিং এবং গুণমান উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, VB-G RAM G আইন কেবল নাম বদল নয়, বরং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের একটি বিস্তৃত আইনগত সংস্কার। জবাবদিহি, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং টেকসই আয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে এই আইনে।
কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি গান্ধীর আদর্শেই গ্রামীণ উন্নয়ন ভাবনা, তা হলে কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে তাঁর নাম সরিয়ে শিল্পোন্নয়ন প্রকল্পে তা ফিরিয়ে আনা কেন?
‘পূজ্য বাপু’ নামের প্রস্তাব ও কেন্দ্রের কৌশল
এই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সূত্র মারফত এক সময়ে শোনা গিয়েছিল, প্রকল্পের নতুন নাম হতে পারে ‘পূজ্য বাপু গ্রামীণ রোজগার যোজনা’। সে ক্ষেত্রে নাম বদলালেও গান্ধীর উপস্থিতি বজায় থাকত। শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। তার বদলে এল VB-G RAM G নাম, যা সরকারপক্ষের মতে উন্নয়ন ও রোজগারের আধুনিক রূপরেখার প্রতিফলন।
বাজেটে আবার ‘মহাত্মা গান্ধী’ নামেই গ্রাম স্বরাজ ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করে কেন্দ্র যেন এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছে। এক দিকে নীতিগত সংস্কারের যুক্তি, অন্য দিকে গান্ধী-বিরোধী তকমা কাটানোর প্রয়াস।
সব মিলিয়ে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে গান্ধীর নাম সরানো এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ শিল্পোন্নয়নে গান্ধীর নাম জুড়ে দেওয়া— এই দুই বিপরীত সিদ্ধান্তই বাজেট-পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। সমর্থকদের মতে, এটি প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও নতুন ভাবনার প্রতিফলন। বিরোধীদের চোখে, এটি নামের রাজনীতিতে কৌশলী ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা।
গান্ধীর নাম থাকুক বা না থাকুক, গ্রামোন্নয়নের প্রশ্নে ফলাফলই শেষ কথা। কিন্তু সেই ফলাফলের পথে গান্ধী-রাজনীতি যে বাজেট ২০২৬-কে নতুন করে রাজনৈতিক ময়দানে ঠেলে দিয়েছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই।