Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্টনির্বাচকদের শর্টলিস্টে বৈভব! আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা, ভাঙতে পারেন সচিনের রেকর্ডIPL 2026: ‘কাছের অনেককে বলেছিলাম, বৈভবকে প্রথম বলে আউট করব!’ কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রফুল্ল

যত দোষ নন্দ ঘোষ! পর পর অগ্নিকাণ্ডে আওয়ামী লিগের দিকেই আঙুল, এক সুর সরকার, বিএনপি-এনসিপি

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ওই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। আগুনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসেবে বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দমকল বাহিনীর এক শীর্ষ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, 'একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যে এত নিম্নমানের হতে পারে তা কল্পনার অতীত। এতদিন যে আগুন লাগেনি, সেটাই আল্লাহর অশেষ কৃপা।'

যত দোষ নন্দ ঘোষ! পর পর অগ্নিকাণ্ডে আওয়ামী লিগের দিকেই আঙুল, এক সুর সরকার, বিএনপি-এনসিপি

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 20 October 2025 13:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন নেভাতে ১৭ ঘণ্টা লেগেছে। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ওই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। আগুনে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিক হিসেবে বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দমকল বাহিনীর এক শীর্ষ কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, 'একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যে এত নিম্নমানের হতে পারে তা কল্পনার অতীত। এতদিন যে আগুন লাগেনি, সেটাই আল্লাহর অশেষ কৃপা।'

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপি সহ একাধিক দল অবশ্য মনে করছে এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত নাশকতা। ‌সেই সঙ্গে তারা এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ফ্যাসিস্টদের হাত দেখতে পাচ্ছে। ‌উল্লেখযোগ্য হল, গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আওয়ামী লিগ এবং শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট শক্তি বলে উল্লেখ করে আসে সরকার এবং বিএনপি-জামাত সহ বিভিন্ন দল। ‌

ঢাকার মীরপুরের এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুনে ১৬ জন শ্রমিক মারা গিয়েছেন

ঢাকা বিমানবন্দরে আগুন লাগার দুদিন আগে রাজধানীর মীরপুরে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুনে ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন। দমকল বাহিনী সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে তাজ্জব বনে যায়। দেখা যায় ফ্যাক্টরি কম্পাউন্ডে থাকা রাসায়নিক সামগ্রীর  গুদামে প্রথমে আগুন লাগে। সেখান থেকে মূল ফ্যাক্টরিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল কর্তারা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না ওই রাসায়নিক গুদামে তেজস্ক্রিয় পদার্থ কেন রাখা হয়েছিল। ‌এর আগে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য‌ তথা বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একটি শিল্প তালুকে কয়েকটি কারখানা আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

সোমবার বেশি রাতে চট্টগ্রাম শহরের প্রবর্তক এলাকায় একটি বহুতলে আগুন লাগে। ‌সেখানেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় দমকল বাহিনীকে।‌মীরপুরের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিটি সিল করে দিয়েছে দমকল বাহিনী। সেখানে কয়েকশ কর্মী কাজ হারিয়েছেন। কবে ওই কারখানা খুলবে কেউ জানে না। ‌ এমনিতেই গত বছর ৫ অগস্টের অভ্যুত্থানের পর থেকে গার্মেন্টস শিল্পে মন্দা চলছে। অভুত্থানকারীদের হামলায় শতাধিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঢাকা বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন অগ্নিকাণ্ডে কাজ হারিয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। তাঁরা বিভিন্ন লোডিং-আনলোডিং এবং দেশি-বিদেশি কুরিয়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একাধিক কোম্পানি কর্মচারীদের বসিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। চলতি মাসের বেতনও অনিশ্চিত।‌

এইসব গুরুতর সমস্যার সমাধান নিয়ে কোন ধরনের ভাবনা-চিন্তা সরকারি তরফে দেখা যায়নি বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলি এই ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করছে না। ‌তবে সমাজ মাধ্যমে সরকারি বয়ান নিয়ে চলছে তুমুল অসন্তোষ। ‌যে কোনও ধরনের ঘটনা-দুর্ঘটনায় আওয়ামী লিগের নাশকতার যে বয়ান সরকারি তরফে দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ‌এমনকী কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে অগ্নিকাণ্ডকে হাতিয়ার করে থাকতে পারে সরকার।যদিও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং এনসিপি সরকারি বয়ানকেই মান্যতা দিয়ে অগ্নিকাণ্ড গুলির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে। ‌অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তিনটি আলোচিত অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অবশ্য এখনও কোনও গোয়েন্দা সংস্থা নাশকতার ইঙ্গিত করেনি।‌ দমকলের তরফে এমন কোন আভাস দেওয়া হয়নি। বরং তিনটি ক্ষেত্রেই অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছে তারা। ‌

চট্টগ্রামের এই বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লেগে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ছাই হয়ে গিয়েছে

চট্টগ্রামের শিল্প তালুক, মীরপুরের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি এবং ঢাকা বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় নাশকতার ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে অচল ছিল ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ‌অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক, দুই বিমান পরিষেবাই বন্ধ রাখতে হয়। রবিবার সকালে বিমান পরিষেবা খানিকটা চালু করা সম্ভব হয়। সোমবার সকালেও তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ‌বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আশঙ্কা করছে এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোন ষড়যন্ত্র কাজ করে থাকতে পারে। নাশকতার সম্ভাবনা ধরে নিয়ে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অফিস থেকে বলা হয়েছে, নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সরকার মনে করছে, এগুলি নিছকই দুর্ঘটনা নয়। ঢাকার এক সরকারি কর্তার মতে, পরপর অগ্নিকাণ্ড এবং শনিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় সরকারেরও মুখ পুড়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা এত দুর্বল যে ৭-৮ ঘন্টার চেষ্টাতেও আগুন নেভানো যায়নি।‌ সেখানে বিমানবন্দরের নিজস্ব দমকল বাহিনীর ছাড়াও ঢাকা মহানগর দমকলের কর্মীরাও আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী এবং নৌ বাহিনীর অগ্নি নির্বাপন বাহিনীও তাতে যোগদান করে। ‌তারপরও আগুন কেন নেভানো গেল না সে প্রশ্ন উঠেছে। ‌ সমাজ মাধ্যমে সরকারের মুণ্ডপাত করছেন দেশবাসী।

এই পরিস্থিতিতে নাশকতার কথা বলে সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টায় নেমেছে বলে নানা মহলের অভিযোগ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সে বিষয়ে গভীরভাবে অবগত। আমরা সকল নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই—নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে বলা হয়েছে, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় জনমনে আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দিতে দেব।বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যে কোনও হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

অন্যদিকে, আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব মনে করছে, তাদের নেতাকর্মীদের নতুন করে জেলে পুরতেই নাশকতার গল্প ছড়ানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনার দলের আশঙ্কা বিদেশি কোম্পানিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখভালের দায়িত্ব তুলে দিতে কার্গো ভিলেজ এর অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। দমকলের আগুন নেভাতে ব্যর্থতাও সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে আওয়ামী লিগের একাধিক নেতা একান্তে মন্তব্য করেছেন।‌

অপরদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, 'সম্প্রতি দেশে কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আগুন লাগার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত বলে জনগণ বিশ্বাস করে।' তিনি আরও বলেছেন, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতেই ফ্যাসিস্টদের দোসর'রা জোরালোভাবে নানা ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।' বিএনপি'র এই শীর্ষ নেতার মন্তব্যে স্পষ্ট তিনি পরপর ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লিগকে কাঠগড়ায় তুলতে চান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হারজিত আলমও আওয়ামী লিগের নাশকতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, 'বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখিনা। এগুলো স্বৈরাচারের দোসরদের দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের অংশ। তথাকথিত তদন্ত কমিটির নাটক বাদ দিয়ে এর পিছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা হোক।'যদিও একাধিক বিশ্লেষক বলছেন আগুন লাগার ঘটনায় নাশকতার ইঙ্গিত একটি হাস্যকর অজুহাতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের কোন গুরুত্বপূর্ণ ভবনেই আগুন নেভানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। নেই দক্ষ দমকল বাহিনী। এই সুযোগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা গুলিতে রাজনৈতিক প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে।আওয়ামী লিগের এক প্রথম সারির নেতা বলেন, আমরা কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছি, আগুন লাগার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে সরকার গ্রেফতারি অভিযানে নামতে পারে। ‌


```