ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রূপপুর পরমাণুকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই। এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, শুরু হয়েছে তদন্ত।
_0.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 October 2025 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ভয়াবহ আগুনে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেই অগ্নিকাণ্ডে এবার সামনে এল নতুন তথ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ১৮ টন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ঘটনায়।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর’। প্রকল্পের দুটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেই সময়সীমা নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। কারণ শনিবারের অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো প্রকল্পের অগ্রগতিতেই ধাক্কা লাগল।
বিমানবন্দরের কার্গো হোল্ডের যে অংশে শনিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ আগুন লেগেছিল, সেখানেই রাখা ছিল রূপপুর কেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আসা সরঞ্জাম। বিমানবন্দরে আমদানি হওয়া পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা সংস্থার আধিকারিক বিপ্লব হোসেন জানিয়েছেন, ছ’দিন আগে রাশিয়া থেকে প্রায় ১৮ টন বৈদ্যুতিক সামগ্রী এসে পৌঁছেছিল ঢাকায়। তবে সেই পণ্য খালাস করতে গেলে পরমাণু শক্তি কমিশনের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি দরকার হয়। সেই প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার কারণে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পণ্যগুলি খালাস করা যায়নি। রবিবার সেগুলি খালাসের কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই আগুনে সব পুড়ে গিয়েছে।
বাংলাদেশের একটি দৈনিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের ওই আগুনে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির বস্ত্র রফতানিকারকদের সংগঠন। তবে সরকারিভাবে এই ক্ষতির অঙ্ক নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি।
শনিবার দুপুরে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে বিমানবন্দরের আশপাশে। সঙ্গে সঙ্গে সাময়িকভাবে উড়ান পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের পাশাপাশি সেনা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকেও নামানো হয়। মোট ৩৭টি দমকল ইঞ্জিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াই করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে প্রথম আলো। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর ফের বিমান চলাচল শুরু হয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিমানবন্দরের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনও নাশকতার ছক ছিল কি না? বাংলাদেশের প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় রূপপুর পরমাণুকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই দুর্ঘটনা নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।