বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকার আশঙ্কা করছে এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোন ষড়যন্ত্র কাজ করে থাকতে পারে। নাশকতার সম্ভাবনা ধরে নিয়ে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 21:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দুপুর থেকে অচল হয়ে আছে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক, দুই বিমান পরিষেবাই বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের কার্গোর আগুন (Cargo Fire) শনিবার রাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রাতে জানিয়েছে আগামীকাল সকাল থেকে বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকার আশঙ্কা করছে এই অগ্নিকাণ্ডের পিছনে কোন ষড়যন্ত্র কাজ করে থাকতে পারে। নাশকতার সম্ভাবনা ধরে নিয়ে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অফিস থেকে বলা হয়েছে, নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
শুধু ঢাকা বিমানবন্দরই (Dhaka Airport) নয়, চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার সার্ভিস এলাকায় আগুন লাগে। তার আগে ঢাকার অদূরে একটি গার্মেন্ট কারখানার আগুন চারদিন ধরে জ্বলছে। শনিবার রাত পর্যন্ত তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সরকার মনে করছে এগুলি নিছকই দুর্ঘটনা নয়। ঢাকার এক সরকারি কর্তার মতে, পরপর অগ্নিকাণ্ড এবং শনিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনায় সরকারেরও মুখ পুড়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা এত দুর্বল যে ৭-৮ ঘন্টার চেষ্টাতেও আগুন নেভানো যায়নি। সেখানে বিমানবন্দরের নিজস্ব দমকল বাহিনীর ছাড়াও ঢাকা মহানগর দমকলের কর্মীরাও আগুন নেভাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী এবং নৌ বাহিনীর অগ্নি নির্বাপন বাহিনীও তাতে যোগদান করে। তারপরও আগুন কেন নেভানো গেল না সে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজ মাধ্যমে সরকারের মুণ্ডপাত করছেন দেশবাসী।
এই পরিস্থিতিতে নাশকতার কথা বলে সরকার দায় এড়ানোর চেষ্টায় নেমেছে বলে নানামহলের অভিযোগ। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছ, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি সংঘটিত একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সে বিষয়ে গভীরভাবে অবগত। আমরা সকল নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই—নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় জনমনে আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দিতে দেব।
বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যে কোনও হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।