রনধীর জয়সওয়াল জানান, নিহতদের দেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে।

রনধীর জয়সওয়াল জানান, নিহতদের দেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
শেষ আপডেট: 17 October 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরার (Tripura) খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী বিদ্যাবিল গ্রামে তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুকে (killing of Bangladeshi nationals) কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন। নিহতদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ঢাকা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছে।
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে—এই তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক গরু চুরি করতে ভারতে ঢুকেছিল, এবং ঘটনাস্থলটি ভারতের সীমান্তের প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে।
কী ঘটেছিল সীমান্তে
বুধবার রাতে বিদ্যাবিল গ্রামে ঘটে এই ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে রাবার বাগানের কাছাকাছি এলাকায় গরু চুরির চেষ্টা করছিল। সন্দেহ হওয়ায় গ্রামবাসীরা তাঁদের মুখোমুখি হয়। অভিযোগ, ওই তিনজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’জন গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। পরে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সংঘর্ষের মধ্যেই তিন বাংলাদেশি নিহত হয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানান, নিহতদের দেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক ভারতের কাছে ‘অবিলম্বে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের’ দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এমন ‘অমানবিক’ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ দাবি করেছে—দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভারতের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে গরু চুরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশকেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে সীমান্ত চোরাচালান বন্ধে বাংলাদেশকে আরও সহযোগিতা করতে হবে এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সীমান্ত বেড়া নির্মাণে সহায়তা করতে হবে।”
ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যদিও অধিকাংশ এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়েছে, তবুও গরু চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মতে, সীমান্তে প্রায়ই এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর সম্ভাবনা থাকলেও সীমান্তে নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।